এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে ‘ভয়াবহ’ ঝাঁকুনি!
রবিবার তিরুঅনন্তপুরম থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঘটে এক দুশ্চিন্তার মুহূর্ত। বিমান যাত্রায় ছিলেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ কেসি বেণুগোপাল সহ কয়েকজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা। এই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আতঙ্ক ভাগাভাগি করেছেন কেসি বেণুগোপাল।
বেণুগোপালের কথায়, বিমান নির্ধারিত সময় থেকে কিছু দেরিতে তিরুঅনন্তপুরম বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু উড়ান শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমান ঝাঁকুনি দিতে থাকে, যা প্রায় ঘণ্টাখানিক স্থায়ী হয়। পাইলট পরে জানিয়ে দেন, সিগন্যালের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিমানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হন তারা। অবতরণের জন্য নির্ধারিত চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই প্রায় দু’ঘন্টা ধরে বিমানটি তার আশপাশে ঘোরাফেরা করে কারণ নির্দিষ্ট রানওয়েতে অন্য একটি বিমান ছিল, তাই অপেক্ষা করতে হয়।
বিমানেই ছিলেন কেসি বেণুগোপালের সঙ্গে ইউডিএফের আহ্বায়ক আদুর প্রকাশ, কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কোডিকুন্নিল সুরেশ ও কে রাধাকৃষ্ণণ এবং তামিলনাড়ুর সাংসদ রবার্ট ব্রুস। ঝাঁকুনির কারণে যাত্রীরা অনেকটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, তবে ধন্যবাদ পাইলটের সতর্ক সিদ্ধান্তের, কেউ আহত হননি।
বেণুগোপাল বলেন, “এইবার আমরা ভাগ্যবান, কপালজোরে বেঁচে গিয়েছি। কিন্তু এটা মোটেই ভালো কথা নয় যে যাত্রীদের নিরাপত্তা ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, এ জন্য এয়ার ইন্ডিয়াকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি এই ঘটনার দ্রুত তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং আবহাওয়ার খারাপ অবস্থার কারণে বিমানের গতিপথ পরিবর্তন করে চেন্নাইয়ে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সংস্থা দাবি করেছে, অবতরণের সময় রানওয়েতে অন্য কোনও বিমান ছিল না। তাদের মতে, “আমাদের পাইলটরা প্রশিক্ষিত এবং এই ধরনের পরিস্থিতি যথাযথভাবে মোকাবিলা করেছেন। যাত্রীদের অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত, কিন্তু নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”
এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত পাইলট থাকা সত্ত্বেও বিমান যাত্রায় যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঘটতে পারে। কিন্তু সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্তই যাত্রীদের জীবন বাঁচায়। কেসি বেণুগোপালের মতন এই প্রবাদপ্রতিম নেতাদের সাহসিক অভিজ্ঞতা শোনার পর আমরা একটু সচেতন এবং সতর্ক থাকার কথা ভাবি।
এই যাত্রার পর, প্রত্যেক যাত্রীর হৃদয়ে একটাই কামনা — নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত বিমানযাত্রা। আর এয়ার ইন্ডিয়ার মতো বিমান সংস্থাগুলোর দায়িত্ব, সেই প্রত্যাশাকে সত্যি করা।
কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?