কলকাতাগামী বিমান ফিরল নাগপুরে
মঙ্গলবার সকালে রোমাঞ্চকর মুহূর্তের সাক্ষী হলেন ২৭২ জন যাত্রী। নাগপুর থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটিকে মাঝ-আকাশে হঠাৎ ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কারণে ফিরিয়ে আনতে হল নাগপুর বিমানবন্দরে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিমানের সঙ্গে মাঝপথে একটি পাখির ধাক্কা লাগে, যার ফলে সামনের অংশে সামান্য ক্ষতি হয়। তবে ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা না থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত বিমানটি ঘুরিয়ে আনা হয়।
সকাল ৭টা নাগাদ নাগপুর বিমানবন্দর থেকে উড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট 6E 812। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই পাইলট এবং ক্রু সদস্যরা অস্বাভাবিক কিছু বুঝতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমানটিকে নিরাপদে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন। যাত্রীদের আতঙ্কিত না করে দ্রুত নাগপুর বিমানবন্দরে ফেরানো হয় বিমানটি। ঘটনাটি তদন্তে নেমেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সিনিয়র এয়ারপোর্ট ডিরেক্টর আবিদ রুহি জানিয়েছেন, “পাখির ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা প্রবল হলেও সঠিক কারণ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।”
যাত্রীদের আতঙ্কিত না করলেও তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য ক্রুদের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানের নাকের অংশে ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট। বিমানটি এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে রয়েছে, এবং মেরামতির পরেই তা ফের আকাশে ওড়বে।
এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল সাম্প্রতিক সময়ে আকাশপথে ঘটে যাওয়া একাধিক বিপত্তির কথা। সোমবারই পুণে থেকে দিল্লিগামী একটি স্পাইসজেট বিমানে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়ায় সেটিকেও মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে আনতে হয়। জরুরি অবতরণের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপদে নামানো হয়েছিল। এর আগে গত মাসে পটনা বিমানবন্দর থেকেও উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর ইন্ডিগোর এক বিমানে পাখির ধাক্কা লাগে। সেবারও যাত্রীদের বিকল্প বিমানে পাঠানো হয়েছিল।
ভারতের আকাশপথে যাত্রীসুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রতিটি ঘটনায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যেভাবে বিমানে ভ্রমণ করেন, তাতে পাইলটদের তৎপরতা ও দক্ষতা যাত্রীদের নিরাপত্তার প্রধান ভরসা। এই ঘটনার পর ফের প্রমাণ হল, সামান্য সন্দেহ হলেই বিমান ঘুরিয়ে আনা সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
যাত্রীরা যদিও সামান্য আতঙ্কিত হয়েছেন, তবুও সকলেই নিরাপদে নাগপুরে অবতরণ করেছেন। বিমানবন্দরে নামার পর যাত্রীদের অন্য বিমানে কলকাতা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এদিকে তদন্তে বিমানটির ব্ল্যাক বক্সসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
এই ঘটনায় যাত্রীদের অনেকেই জানিয়েছেন, বিমানে প্রথমে আতঙ্ক ছড়ালেও পাইলট ও ক্রুদের শান্ত আচরণ তাঁদের সাহস জুগিয়েছে। এক যাত্রী বলেন, “ঘটনাটা ভয়ানক হতে পারত। কিন্তু পাইলটরা এতটাই দক্ষতার সঙ্গে বিমান নামালেন যে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”
ভারতের আকাশপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা এখন আরও বেশি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাঝ-আকাশে বিপত্তি ঘটলেও নাগপুর বিমানবন্দরের দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রমাণ করল, সঠিক সময়ে নেওয়া পদক্ষেপই বড় দুর্ঘটনা ঠেকাতে পারে।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ