এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার তদন্তে এখনও কেন দেরি?
ভারতের অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হল। ২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড়ে যাওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ বিমান। সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন মোট ২৬০ জন। কিন্তু এক বছর কেটে গেলেও এখনও প্রকাশিত হয়নি তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট।
এই দুর্ঘটনার তদন্ত করছে ভারতের এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। তাদের সঙ্গে কাজ করছে এয়ার ইন্ডিয়া, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB)। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলির দাবি, এখনও বিমানের ইঞ্জিন সংক্রান্ত বিশ্লেষণ সম্পূর্ণ না হওয়ায় চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশে দেরি হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, বড় ধরনের দুর্ঘটনার এক বছরের মধ্যে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা উচিত। তবে তদন্ত শেষ না হলে অন্তর্বর্তী রিপোর্ট প্রকাশ করে বিলম্বের কারণ জানাতে হয়। সেই পথেই এগোচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা।
খবর অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ইঞ্জিন নিয়ে এখনও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। গত এপ্রিলে ইঞ্জিনের প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়। পরে তদন্তকারীরা ফ্রান্সেও যান কিছু প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের কাজে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ দাবি করেছে, ইঞ্জিনটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে এবং সেখানে আরও পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পথ প্রশস্ত হতে পারে। তবে তাতেও আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে অনুমান।
গত বছর প্রকাশিত অন্তর্বর্তী রিপোর্টে উঠে এসেছিল দুর্ঘটনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তাতে জানা যায়, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানের দুই ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, জ্বালানি নিয়ন্ত্রণকারী সুইচ ‘রান’ মোড থেকে ‘কাট-অফ’ অবস্থায় চলে গিয়েছিল। ফলে ইঞ্জিনে পর্যাপ্ত জ্বালানি পৌঁছায়নি এবং বিমানটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ হারায়।
রিপোর্টে ককপিটের শেষ মুহূর্তের কথোপকথনেরও উল্লেখ ছিল। সেখানে এক পাইলট অন্যজনকে প্রশ্ন করেছিলেন, “তুমি জ্বালানির সুইচ বন্ধ করলে কেন?” জবাবে অন্য পাইলট বলেন, “আমি কিছুই বন্ধ করিনি।” তবে কোন কণ্ঠ কার, তা তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট করেনি। এই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে নানা বিতর্কও তৈরি হয়। মৃত ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়ালের পরিবার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছিল এয়ার ইন্ডিয়া। গত বছরের অক্টোবর থেকে সেই প্রক্রিয়া শুরু হলেও অনেক পরিবার এখনও ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেনি। তাঁদের বক্তব্য, তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন। বিমান সংস্থার কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা জেনে তবেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে ভাবতে চান তাঁরা।
এক বছর পরেও আহমেদাবাদের সেই দুর্ঘটনাস্থলে স্মৃতি এখনও তাজা। নিহতদের পরিবারের কাছে উত্তরহীন প্রশ্নও রয়ে গেছে
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?