বলিউডে বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক নুসরত ভরুচা!
বহু দিন ধরেই বলিউডে লিঙ্গ-ভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এবার সেই প্রশ্ন আরও স্পষ্ট করে তুললেন অভিনেত্রী নুসরত ভরুচা। সরাসরি আঙুল তুললেন বলিউডের পুরুষ-প্রধান সংস্কৃতির দিকে। তাঁর অভিযোগ— পুরুষ অভিনেতাদের জন্য যেখানে বিলাসবহুল ভ্যানিটি ভ্যান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টয়লেট থাকে, সেখানে নায়িকাদের ভাগ্যে জোটে উপেক্ষা আর অব্যবস্থা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নুসরত। তাঁর কথায়, “পুরুষ অভিনেতাদের জন্য সেটে যেমন সুযোগ-সুবিধা থাকে, তেমনটা মহিলাদের জন্য খুব কমই দেখা যায়। আমাদের জন্য অনেক সময়েই কোনও টয়লেটও বরাদ্দ থাকে না। তখন আমাদের পাশের দোকানে গিয়ে বাথরুম খুঁজে নিতে হয়। এটা কি আদৌ গ্রহণযোগ্য?”
সম্মান কেবল মুখে?
নুসরতের মতে, ছবির প্রচারে, ফটোশুটে বা ইভেন্টে নারী অভিনেত্রীদের যতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়, বাস্তবে তাদের সেই মর্যাদা দেওয়া হয় না। ভ্যানিটি ভ্যান বা সেটে থাকা ছোট ছোট সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমেই বোঝা যায়, কে আদৌ সম্মান পাচ্ছেন আর কে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, “একই ছবিতে কাজ করেও পুরুষ তারকার জন্য বিশাল ভ্যানিটি ভ্যান, এসি, সুন্দর বাথরুম থাকবে। কিন্তু অভিনেত্রীদের জন্য ছোট্ট একটা ঘর, তাও হয়তো বাথরুম ছাড়া! এটাই কি কাজের সমতা?”
শুধু পারিশ্রমিক নয়, প্রয়োজন পরিকাঠামোগত সমতা
অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে শুধু পারিশ্রমিক নয়, শুটিং পর্বে মৌলিক সুযোগের অভাবই বেশি ভোগায় মহিলাদের। নুসরত জানান, তিনি একাধিকবার এই বিষয়ে প্রযোজক বা ইউনিটের সঙ্গে কথা বলেছেন, কিন্তু অনেক সময়েই সে কথা কানে তোলা হয় না।
বলিউডে এখনও এমন একটি অদৃশ্য প্রথা চলে, যেখানে পুরুষ অভিনেতার গুরুত্বই বেশি। তিনি সেটে পৌঁছালে শুটিং শুরু হবে, তাঁর জন্য সুবিধা তৈরি থাকবে— এসব যেন স্বাভাবিক। অথচ অভিনেত্রীদের একই কাজ করেও বঞ্চনার মুখে পড়তে হয়।
নুসরতের অভিজ্ঞতা অন্যদের প্রতিবিম্ব?
নুসরত একা নন। অতীতেও এই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন বিদ্যা বালান, তাপসী পান্নু, হুমা কুরেশির মতো একাধিক অভিনেত্রী। বলিউডে নায়ক-নায়িকার মধ্যে শুধুমাত্র পারিশ্রমিক নয়, কাজের পরিবেশ ও আচরণেও যে বিশাল ফারাক, সেটাই প্রমাণ করে বারবার।
নুসরত ভরুচা বলেন, “সবাই মুখে বলে নারী-পুরুষ সমান, কিন্তু শুটিংয়ের মাঠে এসে সেই কথার প্রতিফলন কোথায়? আমাদেরও তো মানুষ মনে করা উচিত। আমাদেরও তো সম্মান প্রাপ্য।”
পরিবর্তনের ডাক
এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে সরব হয়ে অনেকের মনেই সাহস জুগিয়েছেন নুসরত। তিনি মনে করেন, এই ইন্ডাস্ট্রির ভেতর থেকে কেউ যদি কথা না বলে, তবে পরিবর্তন কখনওই আসবে না। পরিবর্তন আনতে হলে, আগে স্বীকার করতে হবে যে এমন বৈষম্য সত্যিই আছে।
বলিউডের গ্ল্যামারাস পর্দার পেছনের এই বাস্তব ছবি আরও একবার সামনে আনলেন নুসরত। তাঁর সোজাসাপ্টা প্রশ্ন— “নায়িকারা কি মানুষ নন?” এই প্রশ্নের জবাব বলিউডকেই দিতে হবে।
মায়ের খরচ চালাতে অস্বীকৃতি! আদালতের রায়, খোরপোশ ঠিক করবেন কাল্যাণীর এসডিও