ছেলে বাবা হবে না মেয়ে? গবেষণা বলছে, ‘৫০-৫০’ সুযোগটা সব সময় সত্যি নয়!

ছেলে বাবা হবে না মেয়ে? সন্তানের লিঙ্গ ঠিক কীভাবে নির্ধারিত হয়? আমরা অনেকেই জানি—ছেলে না মেয়ে হবে, সেটা নির্ভর করে বাবার জিনগত বৈশিষ্ট্যের উপর। সাধারণভাবে ধরে নেওয়া হয়, ছেলেমেয়ে হওয়ার…

July 21, 2025
1 min read

ছেলে বাবা হবে না মেয়ে?

সন্তানের লিঙ্গ ঠিক কীভাবে নির্ধারিত হয়? আমরা অনেকেই জানি—ছেলে না মেয়ে হবে, সেটা নির্ভর করে বাবার জিনগত বৈশিষ্ট্যের উপর। সাধারণভাবে ধরে নেওয়া হয়, ছেলেমেয়ে হওয়ার সম্ভাবনা সমান, অর্থাৎ ৫০-৫০। কিন্তু সাম্প্রতিক একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, বিষয়টা এতটা সরল নয়।

আসলে প্রকৃতি মাঝে মাঝে কিছু পরিবারকে যেন একরকমের পক্ষপাতিত্ব করে! কেউ হয়তো একের পর এক ছেলের বাবা হচ্ছেন, আবার কারও ঘরে একাধিক কন্যা সন্তান। নতুন গবেষণার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এই ঘটনাগুলি নিছক কাকতালীয় নয়—এর পেছনে থাকতে পারে নির্দিষ্ট জিনগত কারণ।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, কিছু পুরুষের শরীরে এমন ধরনের জিন থাকতে পারে, যা তাদের থেকে কন্যা সন্তানের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। আবার কিছু পুরুষের শরীর এমন ধরনের শুক্রাণু বেশি তৈরি করে, যেগুলি ছেলেসন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। অর্থাৎ, একজন পুরুষের শরীর হয়তো ‘মেয়ে হওয়ার সম্ভাবনা’ বেশি জেনেটিকভাবে বহন করে, আবার অন্যজনের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টোটা ঘটে।

এই বৈজ্ঞানিক যুক্তি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে গবেষকরা অনেক বড় পরিবারকে পর্যবেক্ষণ করেছেন, যেখানে একাধিক প্রজন্মে শুধু ছেলে বা শুধু মেয়েরাই বেশি জন্মেছে। এই পরিবারগুলোতে একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে—যেমন দাদুদের বাড়িতে যেহেতু অধিকাংশ ছেলে, তাঁদের ছেলেরাও মূলত ছেলেসন্তানের বাবা হচ্ছেন।

গবেষণার মূল বিষয়টি আরও পরিষ্কার করে বলা যায় এভাবে—যেসব পুরুষের পরিবারে অনেক ভাই রয়েছে, তাঁদের সন্তানও ছেলে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর যাঁদের পরিবারে বোন বেশি, তাঁদের সন্তানদের মধ্যে মেয়ের সংখ্যা বেশি হতে দেখা গেছে।

এই পর্যবেক্ষণ থেকে বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘পুরুষের দিক থেকে’ কিছু জিনগত বৈশিষ্ট্য কাজ করতে পারে, যা এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি চিহ্নিত হয়নি। তবে এটাও স্পষ্ট, এই বিষয়টি এখনও গবেষণার প্রাথমিক স্তরে রয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে কিছু বলার আগে আরও তথ্য প্রয়োজন।

তবে এ কথাও ঠিক, সন্তানের লিঙ্গ নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান যতই গবেষণা করুক না কেন, তা আগে থেকে নির্ধারণ করা বা পরিকল্পনা করে নিয়ন্ত্রণ করা এখনো অনৈতিক ও বেআইনি বিষয় অনেক দেশের আইনে। ভারতের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই।

তবুও এই গবেষণা আমাদের ভাবায়—প্রকৃতি কি তাহলে কোনো এক অদৃশ্য সূত্র মেনে কিছু মানুষকে শুধু ছেলে বা শুধু মেয়ে সন্তানের বাবা-মা হতে ‘নিয়তি’র মতো নির্ধারণ করে রাখে? সেই উত্তরের জন্য আরও কিছু বছর হয়তো অপেক্ষা করতেই হবে।

তবে আপাতত এই বৈজ্ঞানিক তথ্যে একটাই বড় কথা উঠে আসছে—সব পরিবারের গল্প একরকম হয় না, কারণ আমাদের শরীরের গভীরে বসে থাকা জিন-ই লিখে দেয় অনেক অদৃশ্য গল্প।

রান্নাঘরের ধোঁয়ার গন্ধ যাচ্ছে না? ঘরোয়া উপায়ে দূর করুন এই অসুবিধা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *