ইচ্ছার ঊর্ধ্বে কোনও আইন নয়—৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বার গর্ভপাতের অনুমতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

ইচ্ছার ঊর্ধ্বে কোনও আইন নয়! ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও মহিলাকে সন্তান ধারণে বাধ্য করা যায় না—এই স্পষ্ট ও মানবিক বার্তাই ফের একবার তুলে ধরল সুপ্রিম কোর্ট। ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক ১৮…

February 6, 2026
0 min read

ইচ্ছার ঊর্ধ্বে কোনও আইন নয়!

ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও মহিলাকে সন্তান ধারণে বাধ্য করা যায় না—এই স্পষ্ট ও মানবিক বার্তাই ফের একবার তুলে ধরল সুপ্রিম কোর্ট। ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক ১৮ বছরের তরুণীকে গর্ভপাত করানোর অনুমতি দিয়ে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, নারীর শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর চূড়ান্ত অধিকার তাঁর নিজেরই।

এই মামলায় বম্বে হাই কোর্টের আগের রায় খারিজ করেছে বিচারপতি বিভি নাগরত্নের বেঞ্চ। হাই কোর্ট তরুণীকে সন্তান জন্ম দিতে বলেছিল এবং পরে সেই শিশুকে দত্তক দেওয়ার ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, আদালত কোনও অবস্থাতেই একজন মহিলাকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গর্ভধারণ সম্পন্ন করতে বাধ্য করতে পারে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “কোনও মহিলা না চাইলে তাঁকে সন্তানের জন্ম দিতে বাধ্য করা যায় না। এতে তাঁর শরীর ও মনের উপর গভীর চাপ পড়তে পারে।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও প্রজনন অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

মামলার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ওই তরুণী ১৭ বছর বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর বয়স ১৮ বছর চার মাস। এক বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্কের সময় এই গর্ভধারণ ঘটে। আদালতের সামনে পেশ করা মেডিক্যাল রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বেঞ্চ জানায়, এই পর্যায়ে গর্ভপাত করালে তরুণীর জীবনের কোনও ঝুঁকি নেই। সেই কারণেই গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তরুণীর আইনজীবী সওয়াল করে জানান, তাঁকে জোর করে সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য করা হলে তা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। সমাজে লাঞ্ছনা ও মানসিক আঘাতের আশঙ্কাও রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তিকে গুরুত্ব দেয় এবং জানায়, এই ক্ষেত্রে তরুণীর অনিচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, সন্তান ধারণের সময়ে তরুণী নাবালিকা ছিলেন। সেই সময়কার একটি সম্পর্ক থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি। তাই তিনি এখন সেই সন্তানকে ধারণ করতে চান কি না, সেটাই বিচার্য। আদালত স্পষ্ট করেছে, সম্পর্কটি সম্মতিতে হয়েছিল কি না—তা এই মামলার মূল বিষয় নয়।

রায়ে বলা হয়, “শিশুটি অবৈধ বলে বিবেচিত এবং মা সেই সন্তানকে ধারণ করতে চান না। একজন মহিলার সন্তান জন্ম দেওয়ার স্বাধীনতাই এখানে মুখ্য। কোনও আদালত একজন মহিলাকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে মা হতে বাধ্য করতে পারে না।”

এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট আবারও জানিয়ে দিল, আইন মানবিকতার ঊর্ধ্বে নয়। নারীর শরীর, মানসিক স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর নিজেরই—এই বার্তাই ছড়িয়ে পড়ল দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *