মীরা নায়ারের ছেলেকে ঘিরে কঙ্গনার বিস্ফোরক মন্তব্য!
সব সময় বিতর্কের কেন্দ্রে থাকেন কঙ্গনা রানাউত। সামাজিক, রাজনৈতিক বা বিনোদনের যে কোনও প্রসঙ্গেই নির্ভয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করতে তিনি সিদ্ধহস্ত। আর তাতে কখনও প্রশংসা, কখনও তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়েন। তবে এবার তাঁর নিশানায় উঠেছেন পরিচালক মীরা নায়ারের পুত্র জ়োহরান মামদানি।
জ়োহরান মামদানি নিউ ইয়র্কভিত্তিক এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনৈতিক নেতা। সম্প্রতি তিনি ধর্ম ও রামচন্দ্রকে ঘিরে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তা নিয়েই বেজায় চটেছেন কঙ্গনা। টুইটারে তিনি লেখেন, “মীরা নায়ারের ছেলে, মেহমুদ মামদানির পুত্র— জ়োহরান। জন্মসূত্রে হিন্দু হলেও তাঁর কথাবার্তা একেবারে পাকিস্তানিদের মতো শোনায়। হিন্দুত্বের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না ওঁর মধ্যে।”
মীরা নায়ার বরাবরই বলিউড ও আন্তর্জাতিক সিনেমার মেলবন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ‘সালাম বম্বে’, ‘মনসুন ওয়েডিং’, ‘দ্য নেমসেক’— এসব ছবির জন্যই তিনি বিখ্যাত। তাঁর স্বামী মেহমুদ মামদানি একজন বিশিষ্ট লেখক ও বুদ্ধিজীবী। তাঁদের সন্তান জ়োহরান মামদানি নিউ ইয়র্কে একজন বিধায়ক হিসাবে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত। তবে সম্প্রতি ধর্ম ও ভারতীয় ঐতিহ্য সংক্রান্ত মন্তব্যে তিনি নিজেই বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। তাঁর কিছু বক্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এই প্রেক্ষাপটেই কঙ্গনার মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর কথায়, “অনেকেই বিদেশে গিয়ে নিজের শিকড় ভুলে যান। জন্মসূত্রে হিন্দু পরিচয় পেলেও, চিন্তাভাবনায় তাঁরা ভারতীয় না হয়ে পাকিস্তানি মানসিকতার হয়ে ওঠেন। আর এটাই দুঃখজনক।” কঙ্গনা আরও বলেন, “ধর্ম, সংস্কৃতি আর মুল্যবোধ থেকে দূরে সরে গেলে এমনটাই হয়। ভারতীয় পরিচয়ের সম্মান রাখার দায় সব ভারতীয়রই রয়েছে— সেটা দেশের ভিতরে থাকুন বা বাইরে।”
জ়োহরানের মন্তব্য কী ছিল, তা নিয়ে কঙ্গনা নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে সাম্প্রতিক এক বক্তৃতায় তিনি ধর্মের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেছিলেন এবং কিছু ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে কটাক্ষ করেন। আর তাতেই ভারতীয়দের একাংশ মনে করেছেন, তিনি রামের নামে অবমাননা করেছেন।
এই ঘটনার পর থেকে কঙ্গনা ছাড়াও আরও অনেকেই জ়োহরানের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। তবে কঙ্গনার বক্তব্যের ভাষা ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণাত্মক এবং সেখানেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। অনেকে বলছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু কাউকে “পাকিস্তানি” বলে দেগে দেওয়া উচিত হয়নি।
এই বিতর্ক এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে আগুনের মতো। কঙ্গনার সমর্থকরা যেমন তাঁর ‘সাহসী বক্তব্য’কে স্বাগত জানাচ্ছেন, অন্যদিকে অনেকে কটাক্ষ করছেন তাঁর মন্তব্যের কড়া ভাষা এবং ‘সাংস্কৃতিক অসহিষ্ণুতা’-র জন্য।
স্মৃতি ধরে রাখার জাদু: মস্তিষ্কে অ্যাসিটোকোলিন সচল রাখতে রোজকার অভ্যেসে আনুন এই পাঁচ পরিবর্তন