শমীক ভট্টাচার্য: তৃণমূলবিরোধী কৌশলে ‘কলকাতার মুখ’ হয়ে ওঠা বিজেপির নতুন সংগঠক!
বঙ্গ রাজনীতিতে কলকাতার মুখ্যত্ব বহু পুরনো। নীচ থেকে উঠে এসে ‘কলকাতার মুখ’ হিসেবে আসীন হয়েছেন শেখর রায়, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—এবার সেই কন্যাদ্বীপী শহরই বিজেপিকে সাঁপিয়ে দিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিশ্বাসের নতুন মুখ: শমীক ভট্টাচার্য।
বুধবার ঘোষণা করা হল, শমীককে করা হল পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি—যাকে অনেকে এক ‘কলকাতা ফ্যাক্টর’ হিসেবে দেখছেন। কেন এই পদক্ষেপ? কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানতে চায় শহুরে, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালিকে সাড়া দিতে, বিশেষ করে মহা শহর কলকাতা, রাজারহাট বা দুর্গাপুর-আয়াত এলাকায়। শমীক যেমন ‘বাগ্মী মুখ’ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমে, তেমনই বিরোধীর সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে কথা বলার শিল্পে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন—শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে মুকুল রায় কেউ কেউ এমন ‘গ্রাহ্যতা’ রাখেন।
বিজেপি মনে করে, শুভেন্দুর সঙ্গে মেলবন্ধন বজায় রেখে দলের কমান্ডে শমীক রাখা যাবেন—যা দলে ঐক্য এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করবে। অন্য দিকে, শমীকের অনুগামী মানেন, তিনি দলের সর্বত্র ও সর্বদা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন, বিরোধীদের বিদ্রোহেও মুখী হননি। রাজ্যসভায় ওঠার সঙ্গেই নীলবাড়ি নির্বাচনে কেন্দ্রের বিশ্বাসে তিনি দলের উত্তর—চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছেন।
তবে অনেকের মতে, কলকাতার ‘মহা শহর’ থেকেই উঠে আসা নেতার সফলতা বোঝার রূপকার—দিলীপ ঘোষ কিংবা তথাগত রাজ্য সভাপতির মতো নেতা তাঁদের গভীর ঐতিহ্য নিয়ে ওঠানামা করেছেন রাজ্যে। তবু ভোটের ফলাফল তাঁদের ব্যর্থ করে না, বরং কলকাতার সংযোগ সর্বদা কার্যকর। এই যুক্তিতেই শহরের শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিজেপি আবার ফিরতে চায় সে জায়গাতে।
২০১৪ সালের বসিরহাটে হার ও পরে দক্ষিণ কেন্দ্রে জয়—এই উত্থান গণ্য হলেও, অভিযোগ আছে শমীক ‘কোণঠাসা’ ছিলেন কিছু বিরোধী যোগান দিতে। ২০১৯ সালের দমদম প্রার্থী হিসেবে দায়ের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে, যদিও তা নাকচ করেন। তবে দলের একান্ত অনুজ শংসা করেন—“সে কখনও দলের গোপনীয়তা ফাঁস করেননি, বরং নেতৃত্বের প্রতি তার আনুগত্যই দলকে আলাদা করে দিয়েছে।“
সব মিলিয়ে, কলকাতা–বড়ে‘নাগরিক’ দলের কেন্দ্রীয় মঞ্চে শমীকের উত্থান বিজেপির নতুন কৌশলে ‘শহুরে গ্রহণযোগ্যতা’ এবং সাংগঠনিক বেলাগ করা হয়েছে ‘লোকজনের প্রতিনিধি’। আগামী ভোটনিতে তার প্রতিফলন রয়ে যাচ্ছে চমক।
বৃষ্টির দিনে ঘন ঘন লোডশেডিং? খাবার নষ্ট হওয়ার আগে অবলম্বন করুন এই সহজ কৌশলগুলি