ইরানের ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র জবাবে ট্রাম্প বললেন!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার বার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তাঁর কথায়, “ইরান কখনও হুমকিতে মাথা নত করে না, আর এ বার যুদ্ধ শুরু।” এর জবাবে ট্রাম্প বললেন, “আমার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, কেউ জানে না। আমি করতে পারি, আবার নাও করতে পারি।”
এই সংঘাতের সূচনা মঙ্গলবার, যখন ট্রাম্প বলেন, তিনি জানেন খামেনেই কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন, কিন্তু এখনই তাঁকে হত্যা করবেন না। এই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খামেনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক নাটকীয় পোস্টে ‘যুদ্ধ’ শুরু করার ঘোষণা দেন। পোস্টে একটি তরোয়ালধারী যোদ্ধার ছবি দিয়ে তিনি লেখেন, “সন্ত্রাসী ইহুদিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”
এর প্রেক্ষিতে ইজ়রায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, খামেনেইয়ের ভবিষ্যৎ হতে পারে সাদ্দাম হুসেনের মতোই। হুঁশিয়ারি, পাল্টা হুঁশিয়ারিতে এখন উত্তপ্ত গোটা পশ্চিম এশিয়া।
যুদ্ধ কি আসন্ন?
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এবং ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর মতে, হোয়াইট হাউসে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে ট্রাম্প এখনই তা প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না। আমেরিকার গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ইরান পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে হামলা চালাতেও প্রস্তুত বলে আশঙ্কা।
‘যুদ্ধ শুরু’ বলতে কী বোঝাতে চাইছেন খামেনেই?
এক্স-এ খামেনেইয়ের পোস্টের পর গোটা বিশ্ব চিন্তিত। পোস্টে একটি দুর্গের সামনে তরোয়াল হাতে একজন যোদ্ধার ছবি, পিছনে সৈনিক, আকাশ থেকে উল্কাবৃষ্টি— এক বিশ্লেষণে ধরা পড়ছে, ইরান এবার খোলাখুলি রণনীতি নিচ্ছে। ইরানের দাবি, তারা মাথা নত করবে না, কোনও চাপিয়ে দেওয়া শান্তি তারা মেনে নেবে না।
ইরান-ইজ়রায়েল পাল্টা হামলায় হতাহতের খবর
গত ২৪ ঘণ্টায় ইজ়রায়েলের বোমাবর্ষণে ইরানের তেল শোধনাগার ও সেনা ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে। মৃত ৫৮৫ জন, আহত ১৩০০-এর বেশি। পাল্টা ইরানও ইজ়রায়েলের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। দু’দফায় প্রায় ২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে গিয়েছে মধ্য ইজ়রায়েলের দিকে। যদিও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইন্টারনেট বন্ধ, বাংলাদেশি কূটনীতিকের বাড়িতে হামলা
ইজ়রায়েলের হামলার জেরে ইরানে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ইন্টারনেট। সরকারের বক্তব্য, সাইবার হামলা ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামও নিষিদ্ধ। গুগল ও অ্যাপল স্টোরও ব্লক। এর মধ্যেই খবর, তেহরানে বাংলাদেশি দূতাবাসের এক আধিকারিকের বাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ইজ়রায়েলের বোমায়।
কী বলছে ভবিষ্যৎ?
পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ইরান আলোচনায় বসতে চেয়েছিল, ট্রাম্প বলছেন, “এখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।” অন্য দিকে ইজ়রায়েল চাইছে, আমেরিকা সরাসরি যুদ্ধ শুরু করুক। প্রশ্ন উঠছে— কী হবে আগামী দিনে?
জৌলুস ছেড়ে যোগপথে জ্যাকলিন! রবি শঙ্করের আশ্রমে আধ্যাত্মিক শরণ