ট্রাম্প-মুনির বৈঠকে উত্তেজনার আবহ!
বুধবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে মুখোমুখি বসতে চলেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় ক্যাবিনেট রুমে এই বিশেষ লাঞ্চ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। ট্রাম্প-মুনির আলোচনায় কী কী বিষয় উঠে আসতে পারে, তা ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
পাঁচ দিনের সফরে আমেরিকায় পাক সেনাপ্রধান
পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, জেনারেল মুনির বর্তমানে পাঁচ দিনের সফরে আমেরিকায় রয়েছেন। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, তাঁকে আমেরিকার ২৫০তম সেনা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদিও পরে সেই দাবি খারিজ করে দেয় মার্কিন প্রশাসন। অনুষ্ঠানেও দেখা মেলেনি মুনিরের। তবে সেই চাপানউতোরের মাঝেই ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিক বৈঠকের ঘোষণা, জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।
আলোচনায় ভারত, কাশ্মীর এবং সংঘর্ষবিরতি?
এপ্রিলের ‘পহেলগাঁও কাণ্ড’ এবং পরবর্তী ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ফের এক দফা টানাপড়েনের মুখে পড়ে। যদিও কয়েক দিনের সংঘর্ষের পর উভয়পক্ষ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়। ট্রাম্প নিজে দাবি করেছিলেন, এই শান্তি আলোচনায় তাঁর মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। যদিও ভারত সরকার তা না মেনে, না অস্বীকার করে কূটনৈতিকভাবে নীরব থেকেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-মুনির বৈঠকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। নয়াদিল্লির কূটনৈতিক নজরও থাকবে এই আলোচনার উপর।
ইরান-ইজ়রায়েল সংঘর্ষ এবং ইসলামাবাদের অবস্থান
বর্তমানে ইরান ও ইজ়রায়েলের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। এই প্রেক্ষিতেও মুনির-ট্রাম্প বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ইসলামাবাদ ইতিমধ্যেই ইজ়রায়েলের সামরিক হামলার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। এমনকি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক সদস্যের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে— ইজ়রায়েল যদি ইরানের উপর পরমাণু বোমা ফেলে, তাহলে ইসলামাবাদও পাল্টা জবাব দেবে।
যদিও ইসলামাবাদ এই দাবি স্বীকার করেনি বা অস্বীকারও করেনি। তবে এটা পরিষ্কার, পাকিস্তান বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থানকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে প্রভাব বাড়াতে তেহরানের পাশে থাকার বার্তা দিতে চাইছে।
কেন এত গুরুত্ব পাচ্ছে এই মধ্যাহ্নভোজ?
এই বৈঠক শুধু সেনা বিষয়ক আলোচনা নয়, বরং দুই দেশের কূটনৈতিক এবং কৌশলগত অবস্থানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। আফগানিস্তান, চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (CPEC), ভারতের প্রভাব খাটো করা এবং ইরান পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের অবস্থান— সব মিলিয়ে এই মধ্যাহ্নভোজ রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
শসা নয়, এবার লাউয়ের রায়তা! পুষ্টিবিদ বলছেন, উপকারে অনেকটাই এগিয়ে ‘লউকি’র ছাপা রেসিপি