ট্রাম্প-মাস্ক ‘ব্রোম্যান্স’-এর ছিন্নমন্ত্র! ১০ মাসের স্বার্থনির্ভর বন্ধুত্ব শেষ হল বিস্ফোরক বিবাদে

ট্রাম্প-মাস্ক ‘ব্রোম্যান্স’-এর ছিন্নমন্ত্র! মাত্র ১০ মাস আগেও একে অপরকে ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করতেন তাঁরা। মার্কিন রাজনীতির আলোচিত চরিত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রযুক্তি জগতের জাগরুক নায়ক ইলন মাস্ক—দু’জনের সম্পর্ক ছিল…

June 7, 2025
1 min read

ট্রাম্প-মাস্ক ‘ব্রোম্যান্স’-এর ছিন্নমন্ত্র!

মাত্র ১০ মাস আগেও একে অপরকে ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করতেন তাঁরা। মার্কিন রাজনীতির আলোচিত চরিত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রযুক্তি জগতের জাগরুক নায়ক ইলন মাস্ক—দু’জনের সম্পর্ক ছিল অভূতপূর্ব। একসঙ্গে রাজনীতি ও ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সময়ের স্রোতে বদলেছে সমীকরণ। আজ সেই সম্পর্কের রেশ মাত্রই টিকে আছে বিস্ফোরক মন্তব্য আর কাদা ছোড়াছুড়ির মাধ্যমে। ‘ব্রোম্যান্স’ থেকে শুরু, আর এখন একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছেন দু’জনেই।

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন মাস্ক। শুধু মুখের কথা নয়, তাঁর দলকে মাস্ক দিয়েছিলেন প্রায় ২৮ কোটি ডলারের অনুদানও। ট্রাম্পের প্রিয় স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ বা ‘মাগা’-র প্রচারের পেছনেও মাস্কের মস্তিষ্ক কাজ করেছিল বলে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন। ট্রাম্প জেতার পর তাঁকে ‘সরকারি দক্ষতা বিষয়ক দফতর’-এর নেতৃত্বে বসানো হয়, যেখানে মাস্কের কাজ ছিল খরচ কমিয়ে অর্থনৈতিক সংস্কার আনা।

কিন্তু নাটকীয় মোড় নেয় ২০২৫ সালে। ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বিল ঘিরেই শুরু হয় মতবিরোধ। ১,১১৬ পাতার সেই বিলের মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর কর কমিয়ে ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) ক্ষেত্রে ভর্তুকি কমানো হয়। স্পষ্টতই, এতে মাস্কের টেসলার উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। কয়েক দিনের মধ্যেই টেসলার শেয়ার ২০ শতাংশ পড়ে যায়। মাস্কের ভাষায়, এই বিল আমেরিকাকে “ঋণের দাসত্বে” ফেলবে। ট্রাম্প যদিও বিলটিকে বলেন “বড় সুন্দর”, এবং দাবি করেন এটি আমেরিকাকে চীনের উপর নির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত করবে।

এর জেরে প্রকাশ্যে আসে বিরোধ। ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে মাস্কের সংস্থাগুলোর সরকারি ভর্তুকি বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেন। স্পেসএক্সের সরকারি চুক্তি বাতিলের কথাও বলেন। তার প্রতিক্রিয়ায় মাস্ক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ট্রাম্প আমার সাহায্য ছাড়া জিততেই পারতেন না।” একই সঙ্গে ‘এপস্টাইন ফাইল’ সামনে আনার হুমকি দেন মাস্ক, যেখানে ট্রাম্পের নাম রয়েছে বলেও দাবি করেন।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক ট্রাম্পকে ইমপিচ করার কথা বলেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বসানোর প্রস্তাব দেন। পাল্টা ট্রাম্প বলেন, “ইলন মানসিকভাবে অসুস্থ, আমি ওকে চলে যেতে বলেছিলাম।” মাস্ক এর উত্তরে বলেন, “এই বিলটি আমাকে দেখানোই হয়নি, গভীর রাতে লুকিয়ে পাশ করানো হয়েছে।”

এই সংঘাতের আঁচ পড়ছে সিলিকন ভ্যালিতে। যেখানে হাজার হাজার ভারতীয় কর্মী যুক্ত রয়েছেন, বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা বা গ্রিনকার্ডধারীরা। বিলটির এক প্রস্তাবে দেখা যায়, যারা মার্কিন নাগরিক নন, তাঁদের আমেরিকায় উপার্জিত অর্থ বিদেশে পাঠালে ৫ শতাংশ কর দিতে হবে। এতে কর্মরত অভিবাসীদের জীবন জটিল হয়ে উঠতে পারে।

আজ দুই জনের সম্পর্কের নাম হয়েছে ‘ব্রোম্যান্স’-এর ছিন্নাংশ। যা শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লাভের আশায়, তা এখন পরিণত হয়েছে প্রতিহিংসায়। মাস্ক ইতিমধ্যেই পৃথক রাজনৈতিক দল গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পও আর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। তবে রাজনীতির জগতে শেষ শব্দ বলে কিছু নেই—তাই ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।

মুম্বইয়ের বৃষ্টিতে ভিজে দীপিকার প্রথম প্রেম: মুজ্জামিল ইব্রাহিমের উজাড় স্মৃতির কথা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *