জলসঙ্কটে পাকিস্তান! কুনার নদীতে বাঁধ দিয়ে কাবুলের ‘খাঁড়ার ঘা’, পাশে ভারত?

জলসঙ্কটে পাকিস্তান! আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এবার কুনার নদীর উপর বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—পাকিস্তানে প্রবাহিত জল রুখে দেওয়া। আর এই বাঁধ তৈরির কাজ ভারতকে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন খবরে…

May 23, 2025
1 min read

জলসঙ্কটে পাকিস্তান!

আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এবার কুনার নদীর উপর বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—পাকিস্তানে প্রবাহিত জল রুখে দেওয়া। আর এই বাঁধ তৈরির কাজ ভারতকে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন খবরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জল অবরোধ যদি বাস্তবায়িত হয়, তা পাকিস্তানের জন্য নিঃসন্দেহে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে উঠবে।

৪৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ কুনার নদী হিমালয়ের হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়ে আফগানিস্তানের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করে সিন্ধু নদীতে মিশেছে। পঞ্জাবের আটক অঞ্চলে এই নদী কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তালিবানরা যদি এই নদীতে বাঁধ দেয়, তবে পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ কৃষিভিত্তিক এলাকা ভয়াবহ জলসংকটে পড়তে পারে, বিশেষত সিন্ধ ও বালোচিস্তানের মতো শুষ্ক অঞ্চলে।

তালিবান এখনও সরকারি ভাবে বাঁধ তৈরির ঘোষণা না করলেও, সম্প্রতি কুনার প্রদেশে সেনাপ্রধান জেনারেল মুবিন খানের সফর এবং সম্ভাব্য বাঁধস্থল পরিদর্শন এই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে। তাঁর মন্তব্য, “এই জল আমাদের রক্ত, আমরা তা আর বাইরে যেতে দেব না”, স্পষ্ট বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, দেশের কৃষি ও বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে জল সংরক্ষণ জরুরি।

এই প্রকল্পের পাশে রয়েছে ভারতও। আগেই শাহতুত বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব নিয়েছে নয়াদিল্লি। এই বাঁধ তৈরি হলে কাবুল অঞ্চলের ২০ লক্ষ মানুষ পানীয় জল পাবে, এবং চাষের জন্য ব্যবহার হবে হাজার হাজার হেক্টর জমি। তালিবান সরকারের অনুরোধে ভারত ইতিমধ্যেই কুনার নদীতেও সম্ভাব্য বাঁধ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ও ভারতের এস. জয়শঙ্করের মধ্যে ১৫ মে ফোনালাপ তা প্রমাণ করে।

পাকিস্তান এই পরিস্থিতিকে কার্যত যুদ্ধঘোষণা হিসেবে দেখছে। ইসলামাবাদের হুঁশিয়ারি, এই ধরনের প্রকল্প শুরু হলে তার কঠিন প্রতিক্রিয়া হবে। কিন্তু তালিবান ও ভারত উভয়েই বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের স্বার্থে এগোতে চায়।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরেই জলবণ্টন নিয়ে চরম অসন্তোষ। সিন্ধু নদীর উপর চোলিস্তান খাল প্রকল্প নিয়ে উত্তাল সিন্ধ প্রদেশ। পিপিপি-র বিরোধিতায় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতে হামলা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং প্রাণহানি পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করেছে।

উল্লেখ্য, ভারতে পহেলগাঁও জঙ্গি হানার পর ২৩ এপ্রিল নয়াদিল্লি সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে। পাকিস্তানের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়ে দেন—সন্ত্রাস ও জল একসঙ্গে চলতে পারে না। ফলে ভারতও সিন্ধু অববাহিকায় বাঁধ নির্মাণের পথে হাঁটতে পারে।

১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ব দিকের তিনটি নদীর জল ব্যবহার করে ভারত আর পশ্চিমের তিনটি পাকিস্তান। তবে চুক্তি স্থগিত হলে ভারত ও আফগানিস্তান উভয়ই পাকিস্তানে প্রবাহিত জলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

বার্লি আর চিয়ার জল: কিডনির যত্নে সুস্বাদু ওজন কমানোর নয়া উপায়

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *