ওবিসি সংরক্ষণে আইনি জটিলতা!
সুপ্রিম কোর্টে ওবিসি (অনগ্রসর শ্রেণি) সংরক্ষণ নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকায় বিপাকে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তারই বড় প্রভাব পড়েছে কলকাতার অন্যতম নামী প্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, সংরক্ষণ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক দিকনির্দেশ না আসায় বিজ্ঞান ও কলা বিভাগে ভর্তি অস্থায়ীভাবে স্থগিত করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে সোমবার জানানো হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে কোনো ভর্তির বিজ্ঞপ্তি জারি বা ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব নয়। গত ১৬ মে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়ে জানতে চায়—ওবিসি সংরক্ষণ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কী ভাবছে। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে বিশ্ববিদ্যালয় আরও স্পষ্ট নির্দেশনার অপেক্ষা করছে।
এরই প্রেক্ষিতে, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের ভর্তি কমিটি জরুরি বৈঠকে বসে। সিদ্ধান্ত হয়, স্পষ্ট নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সমস্ত ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়ার কথাও ভাবছে কর্তৃপক্ষ। দ্রুত আবারও বৈঠকে বসে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে বলে জানা গেছে।
এই অবস্থায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে। কেউ কেউ ইতিমধ্যেই ভর্তি প্রস্তুতি শুরু করে ফেলেছেন, কেউ বা অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তির কথা ভাবছেন।
যাদবপুর শিক্ষক সংগঠন জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, “উচ্চশিক্ষা দফতর বা অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর কেউই আমাদের স্পষ্ট করে কিছু জানাচ্ছে না। একে তো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া জটিল করে তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে এতে সুবিধা পাচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।”
প্রসঙ্গত, এই একই সমস্যা গত বছরও হয়েছিল। তখন ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ‘ডিক্লারেশন’ নিয়ে ভর্তি করেছিল যাদবপুর। এবারও বিশ্ববিদ্যালয় আগেভাগেই চিঠি দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকরী নির্দেশ আসেনি।
শুধু যাদবপুর নয়, একই সমস্যা নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ও রাজ্য সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে। তবে তারা ইতিমধ্যেই এম-টেক ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যেখানে ওবিসি সংরক্ষণের উল্লেখ রয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা জানিয়েছেন, “আমরা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি ঠিকই, তবে রাজ্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এই অচলাবস্থায় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক মহলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ভর্তি প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, আদৌ হবে কি না, সংরক্ষণের নিয়ম কেমন হবে—এই সব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। আপাতত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেই এগোচ্ছে।
দেশপ্রেমের নজির: ৫০ লক্ষের প্রস্তাব ফিরিয়ে রাহুল বৈদ্যের তুরস্কে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত