একাই চাকরি রক্ষা পেলেন সোমা! বাকিদের চাকরি গেল, কী বললেন ক্যানসার আক্রান্ত এই শিক্ষিকা?

একাই চাকরি রক্ষা পেলেন সোমা! ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারালেন ২৫ হাজার ৭৫২ জন। কিন্তু একমাত্র সোমা দাসের চাকরি রক্ষা পেল। ক্যানসার আক্রান্ত এই শিক্ষিকাকে…

April 3, 2025
1 min read

একাই চাকরি রক্ষা পেলেন সোমা!

২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারালেন ২৫ হাজার ৭৫২ জন। কিন্তু একমাত্র সোমা দাসের চাকরি রক্ষা পেল। ক্যানসার আক্রান্ত এই শিক্ষিকাকে ‘মানবিক কারণে’ চাকরিতে বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু এই রায়ে খুশি নন সোমা! তাঁর কথায়, “আমি চাইনি আমার চাকরি থাকুক, বাকিদের চলে যাক!”

কেন চাকরি পেলেন শুধু সোমা?

বীরভূমের নলহাটির মেয়ে সোমা দাস ২০১৬ সালে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ (SLST) পরীক্ষায় বসেছিলেন। মেধাতালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তিনি চাকরি পাননি। এরপর শুরু হয় তাঁর লড়াই।

এর মধ্যেই ২০১৯ সালে ধরা পড়ে মারণ রোগ ক্যানসার। কিন্তু সোমা হাল ছাড়েননি। একদিকে মারণব্যাধির চিকিৎসা, অন্যদিকে চাকরির দাবিতে অসুস্থ শরীরে রোদ, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দিনের পর দিন কলকাতার রাস্তায় ধর্না ও অবস্থান বিক্ষোভ করেন।

এই মামলার তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা শুনে রাজ্য সরকারকে ‘অনুরোধ’ করেন যাতে তাঁকে চাকরি দেওয়া হয়।

অবশেষে, ২০২২ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) সোমাকে চাকরির সুপারিশপত্র দেয়। তিনি বীরভূমের মধুরা হাই স্কুলে বাংলা শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন।

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত কী?

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়—

  • ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াই বাতিল।
  • যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করা সম্ভব হয়নি, তাই গোটা প্যানেল বাতিল করা হলো।
  • কিন্তু মানবিক কারণে সোমা দাসের চাকরি রক্ষা করা হবে।

এই রায় শুনে সাময়িক স্বস্তি পেলেও সোমার মনে স্বস্তি নেই।

সোমা দাস কী বললেন?

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সোমা বলেন—

“আমি কখনও চাইনি আমার চাকরি থাকুক, বাকিদের চলে যাক। এই রায় আমার কাছে অনভিপ্রেত। কারণ গোটা প্যানেলে অনেকেই যোগ্য ছিলেন।”

তিনি আরও বলেন,

“সরকার ও এসএসসি যদি আরও দায়িত্বশীল হতো, তাহলে যোগ্যদের চাকরি হারাতে হতো না।”

সোমার সংগ্রামের গল্প

২০১৬ সালে চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ পাননি সোমা। এরপর তিনি হাই কোর্টে মামলা করেন। কিন্তু মামলার রায় আসার আগেই ২০১৯ সালে ধরা পড়ে ক্যানসার।

ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য তাঁকে দিল্লি ও মুম্বইতে কেমোথেরাপি নিতে হয়েছিল। তবুও চাকরির দাবিতে তিনি রাজপথে নেমে আন্দোলন চালিয়ে যান।

তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর কষ্টের কথা জানতে পেরে রাজ্য সরকারকে সোমার চাকরির ব্যবস্থা করতে বলেন। ২০২২ সালে রাজ্য সরকার তাঁর চাকরির সুপারিশ করে।

বাকিদের কী হবে?

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২৫ হাজার ৭৫২ জনের চাকরি বাতিল হয়েছে।

  • তাঁদের নতুন করে পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে।
  • যারা অন্য সরকারি চাকরি ছেড়ে এসএসসি’র মাধ্যমে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন, তাঁরা চাইলে আগের চাকরিতে ফিরে যেতে পারবেন।
  • তবে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া ঠিক কবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

শেষ কথা

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে শুধু সোমা দাসের চাকরি রক্ষা পেলেও, এতে তিনি স্বস্তিতে নেই। কারণ অন্য অনেক যোগ্য প্রার্থী চাকরি হারালেন।

এখন প্রশ্ন একটাই— নতুন নিয়োগ কবে হবে? যোগ্যদের কি সুবিচার মিলবে? রাজ্য সরকার কীভাবে এই সংকট সামলাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়!

ট্রাম্পের ‘পাল্টা শুল্ক’ ঘোষণার অপেক্ষায় বিশ্ব, ভারতের চিন্তা বাড়ছে!

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *