তুরস্কে বিক্ষোভের আগুন!
তুরস্কের রাজনীতিতে নতুন ঝড়। বিরোধী নেতা এবং ইস্তানবুলের জনপ্রিয় মেয়র একরেম ইমামোগলুর আকস্মিক গ্রেফতারিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। প্রবল জনরোষের মুখে প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়িপ এর্দোয়ান দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। তবে সরকারি সূত্র থেকে এই বিষয়ে নিশ্চিত কোনো ঘোষণা আসেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অস্থিরতা তুরস্ককে আবারও সেনা অভ্যুত্থানের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে।
এর্দোয়ানের দীর্ঘ শাসনের পরিণতি?
গত দুই দশক ধরে তুরস্কের ক্ষমতায় রয়েছেন এর্দোয়ান। তিনি একাধিকবার সংবিধান পরিবর্তন করে নিজের শাসন দীর্ঘায়িত করেছেন। ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে থাকার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু ক্রমাগত স্বৈরতান্ত্রিক নীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তুঙ্গে পৌঁছেছে। তার বিরোধী নেতা ইমামোগলুর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়তে থাকায় এর্দোয়ানের কুর্সি টলমল হয়ে ওঠে।
গ্রেফতারির পর বিক্ষোভের ঢেউ
গত ১৯ মার্চ সকালে ইস্তানবুলের নিজ বাড়ি থেকে ইমামোগলুকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ দুই সহযোগীকেও আটক করা হয়। এই ঘটনার পরপরই ইস্তানবুলের রাস্তায় হাজারো মানুষ নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট বিরোধী স্লোগান দিতে থাকে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাজধানী আঙ্কারাসহ অন্যান্য শহরেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক প্রতিশোধ নাকি আইনানুগ ব্যবস্থা?
সরকারি পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইমামোগলুর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা বলছে, এটি কেবলমাত্র রাজনৈতিক প্রতিশোধ। কারণ, কিছুদিনের মধ্যেই ইমামোগলুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল। তার গ্রেফতারির মাধ্যমে এর্দোয়ান তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছেন।
তুরস্কের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই রাজনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে তুরস্কের অর্থনীতিতে। ইস্তানবুলের শেয়ারবাজারে ব্যাপক পতন হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং পশ্চিমা দেশগুলো তুরস্কের গণতান্ত্রিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেন বলেছেন, “তুরস্কের গণতন্ত্র এখন কঠিন পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে।”
এর্দোয়ানের ভবিষ্যৎ কী?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর্দোয়ানের ক্ষমতায় থাকা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠবে। গণআন্দোলন দমন করতে তিনি হয়তো আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেন, অথবা আন্তর্জাতিক সমর্থন ধরে রাখতে কৌশলী পথে হাঁটতে পারেন। সেনাবাহিনীর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে—তারা কি এর্দোয়ানের পক্ষে থাকবে, নাকি গণআন্দোলনের সমর্থনে নতুন কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে?
তুরস্কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন দোদুল্যমান। একরেম ইমামোগলুর গ্রেফতার কি এর্দোয়ানের শাসনের ইতি টানবে? নাকি আরও কঠোরভাবে ক্ষমতা ধরে রাখবেন প্রবীণ এই নেতা? উত্তর সময়ই দেবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—তুরস্কের রাজনীতির আগামীর দিনগুলো রক্তগরম উত্তেজনায় ভরপুর হতে চলেছে।
বিচ্ছেদের পর বিশাল অঙ্কের খোরপোশ দিতে হবে যুজবেন্দ্র চহল! আদালতের রায়ে আলোড়ন