চার বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনে তুরস্কের টার্কিশ এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতির তালিকা প্রকাশ করল ডিজিসিএ

চার বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনে তুরস্কের টার্কিশ এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতির তালিকা! আকাশপথে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ ভারত। আর সেই কারণেই দেশের চারটি ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনে…

June 5, 2025
1 min read

চার বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনে তুরস্কের টার্কিশ এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতির তালিকা!

আকাশপথে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ ভারত। আর সেই কারণেই দেশের চারটি ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনে নেমেছিল অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ (DGCA)। উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক মানের নিয়ম-কানুন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আদৌ ঠিকঠাক মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে দেখা। এই ‘সারপ্রাইজ ভিজ়িট’-এর মূল ফোকাস ছিল তুরস্কের জাতীয় বিমান সংস্থা টার্কিশ এয়ারলাইন্স। পরিদর্শনের পর একাধিক গাফিলতির চিত্র উঠে এসেছে, যা নিয়ে চরম উদ্বেগ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক।

২৯ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত সময়কালে ডিজিসিএ-র দল পরিদর্শন করে দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও চেন্নাই বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দরগুলি আন্তর্জাতিক উড়ানে ব্যস্ত এবং টার্কিশ এয়ারলাইন্স নিয়মিত এখান থেকে বিমান পরিচালনা করে। কিন্তু ডিজিসিএ-র রিপোর্ট অনুযায়ী, সংস্থাটি নিয়ম রীতিমতো লঙ্ঘন করেছে এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিতে গাফিলতি করেছে, যা ভবিষ্যতে বড়সড় বিপদের কারণ হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর থেকে। সেখানে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের হয়ে যিনি বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি নাকি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন। তাঁর কাছে ছিল না কোনও দক্ষতার প্রমাণপত্র বা অনুমোদিত আইডি কার্ড। শুধু তাই নয়, বিমানের অবতরণের পর পরীক্ষার দায়িত্ব যেখানে অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারের হাতে থাকার কথা, সেখানে ওই কাজে নিযুক্ত করা হয়েছিল এক সাধারণ টেকনিশিয়ানকে। এমনকি ডিজিসিএ-র পরিদর্শনের সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইসেন্সধারী পরিষেবা প্রদানকারীও উপস্থিত ছিলেন না।

এতেই শেষ নয়। ডিজিসিএ-র তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য। অভিযোগ, বিপজ্জনক বা দাহ্য পদার্থ— এমনকি বিস্ফোরক দ্রব্যও অনুমতি ছাড়াই টার্কিশ এয়ারলাইন্সের বিমানে পরিবহণ করা হয়েছে। এই ধরনের মাল পরিবহণের জন্য ডিজিসিএ থেকে কোনও ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট নথিও কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না।

বিমানের জিনিসপত্র ওঠানো-নামানোর জন্য ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন সরঞ্জাম, যেমন মই, ট্রলি, পাওয়ার ইউনিট ইত্যাদি। কিন্তু এইসব সরঞ্জামেরও কোনও নির্দিষ্ট নথিপত্র বা রেকর্ড ছিল না বলেই ডিজিসিএ জানায়।

এছাড়া যে সংস্থা টার্কিশ এয়ারলাইন্সের হয়ে গ্রাউন্ড অপারেশন চালায়— গ্লোব গ্রাউন্ড ইন্ডিয়া— তাদের সঙ্গেও কোনও লিখিত চুক্তি ছিল না হায়দরাবাদ ও বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে। যা কিনা সম্পূর্ণভাবে নিয়মবহির্ভূত।

এই সমস্ত ত্রুটি ও গাফিলতির ভিত্তিতে ডিজিসিএ জানিয়েছে, যাত্রীদের সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি বজায় রাখতে তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের হঠাৎ পরিদর্শন চালিয়ে যাবে। টার্কিশ এয়ারলাইন্সকে অবিলম্বে এই গাফিলতিগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বাড়ির আতঙ্ক কাটিয়ে জীবন বদলের পথে করিনা: চুয়াল্লিশে পা দিয়েই নিলেন এক দৃঢ় সিদ্ধান্ত

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *