ব্রিটেনের তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেবেন মমতা!
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবলমাত্র অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, ব্রিটেনের আরও দুই মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সের প্রাক্তন ছাত্রদের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখার জন্যও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সোমবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নন, বরং একজন লেখিকা ও সমাজচিন্তক হিসেবেও আমন্ত্রিত হয়েছেন। তাঁর বক্তৃতাগুলোর মূল প্রতিপাদ্য হবে সামাজিক উন্নয়ন এবং নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়ণ।
অক্সফোর্ডে সম্মানজনক বক্তৃতার সুযোগ
আগামী ২৭ মার্চ, বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে বক্তব্য রাখবেন মমতা। বিষয়: ‘সামাজিক উন্নয়ন: শিশু ও নারী ক্ষমতায়ণ’।
এই বক্তৃতার জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর গত ফেব্রুয়ারিতেই মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন এবং নতুন প্রশাসনিক মডেলের প্রতি অক্সফোর্ডের আগ্রহ রয়েছে বলে আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল।
লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স ও কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণ
মুখ্যমন্ত্রীর ব্রিটেন সফর শুধু অক্সফোর্ডেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাঁকে এক আলোচনাসভায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির এক প্রাক্তন ছাত্র দীপ্তেন্দু রায়, নারী ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ে বক্তব্য রাখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠান।
এছাড়া, লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইল এন্ড ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর সোফিয়া কোল্লিগনন চ্যাথাম হাউসে আয়োজিত একটি বিশেষ আলোচনা সভায় তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষার্থীদের সামনে মুখ্যমন্ত্রী নারী ক্ষমতায়ণ, রাজনৈতিক কৌশল এবং প্রশাসনিক মডেল নিয়ে আলোচনা করবেন।
মমতার সফর নিয়ে উচ্ছ্বাস রাজ্যের
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর পশ্চিমবঙ্গের গর্বের বিষয়। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাংলার উন্নয়ন মডেল ও প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাচ্ছে, যা মুখ্যমন্ত্রীর এই সম্মানজনক আমন্ত্রণের মাধ্যমে প্রমাণিত।”
নারী ও শিশু উন্নয়ন: মমতার প্রশাসনিক অগ্রাধিকার
নারী ক্ষমতায়ণ ও শিশুদের উন্নয়ন বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কন্যাশ্রী প্রকল্প, রূপশ্রী প্রকল্প, এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি বাংলার নারীদের আর্থিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। এই কারণে তাঁর প্রশাসনিক মডেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাচ্ছে এবং গবেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বাংলার জন্য এক গর্বের মুহূর্ত
এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণ শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্বীকৃতিই নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের জন্যও এক গর্বের বিষয়। রাজ্যের উন্নয়ন কৌশল এবং সামাজিক সংস্কার মডেল এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তৃতাগুলো পশ্চিমবঙ্গের সাফল্যের কাহিনি বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধানের উদ্বেগ, ইউনূস প্রশাসনের কড়া প্রতিক্রিয়া