মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটে ভেঙে পড়ল পুরনো বাড়ির অংশ!
কলকাতায় পুরনো ভবন ধসের ঘটনা যেন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে উঠছে। এবার মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটে সংস্কারের কাজ চলাকালীন আচমকাই ভেঙে পড়ল একটি ছয়তলা বাড়ির সামনের অংশ। ভাগ্যক্রমে রাস্তায় তখন ভিড় ছিল না, ফলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে সংস্কারকাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দুপুরে হঠাৎ ভেঙে পড়ল ছ’তলা বাড়ির একাংশ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১৬ মার্চ) দুপুর ৩টা নাগাদ গিরিশ পার্ক থানা এলাকার ১১৯এ নম্বর পুরনো বাড়িটির সংস্কারের কাজ চলছিল। আচমকা বিকট শব্দে তার সামনের অংশটি ভেঙে রাস্তায় পড়ে। সেই সময় এক শ্রমিক ভেতরে কাজ করছিলেন, তিনিই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন। দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে তাঁকে বের করা হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল কর্মী, কলকাতা পুরসভার আধিকারিক ও বিদ্যুৎ সংস্থা সিইএসসি-র দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ভগ্নস্তূপ সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়। তবে এখনও ভবনের অন্যান্য অংশ বিপজ্জনক অবস্থায় আছে কিনা, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অল্পের জন্য প্রাণহানি এড়ানো গেল
ভাগ্যের জোরে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। দুপুরবেলা হওয়ায় রাস্তায় মানুষের ভিড় কম ছিল, তাই কেউ হতাহত হননি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই বাড়িটির অবস্থা খারাপ ছিল, সংস্কারকাজের সময় তাড়াহুড়ো করাতেই এই বিপত্তি।
স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “এই বাড়ির বয়স অনেক হয়েছে। সংস্কার না করে নতুনভাবে তৈরি করাই উচিত ছিল। এখন তো জানি না, আর কোন অংশ কখন ভেঙে পড়বে!”
কলকাতায় পুরনো বাড়ি ভাঙার ঘটনা বাড়ছে
এটি প্রথম ঘটনা নয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বড়বাজারেও পুরনো একটি ভবনের অংশ ভেঙে পড়েছিল। সেখানেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল প্রবল। একইভাবে, বছরের শুরুতেই বাঘাযতীনে একটি ফ্ল্যাটবাড়ি হেলে পড়েছিল। এর পর ট্যাংরা, তপসিয়া, ভবানীপুর, বোসপুকুর, মানিকতলা-কাঁকুড়গাছি সহ বিভিন্ন এলাকায় বহু পুরনো বাড়ির বিপজ্জনক অবস্থা ধরা পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কলকাতা পুরসভা যদি আগেভাগেই ব্যবস্থা নিত, তাহলে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
পুরনো বাড়ির মালিকদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন
বহু পুরনো বাড়ির মালিকরা সংস্কারের জন্য কোনো উদ্যোগ নেন না। তাঁদের অভিযোগ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাড়িগুলো ভাড়াটিয়াদের দখলে থাকে, ফলে নির্মাণ বা সংস্কার করা সম্ভব হয় না। আবার, অনেক মালিক সংস্কারের নামে সাময়িক মেরামত করেন, কিন্তু মূল কাঠামোর কোনো পরিবর্তন করেন না। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়।
কলকাতা পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, “আমরা নিয়মিত নোটিশ পাঠাই, কিন্তু বাড়ির মালিকেরা তাতে সাড়া দেন না। ফলে এই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।”
ভবিষ্যতে কি আরও বিপদ অপেক্ষা করছে?
এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? পুরসভা জানিয়েছে, শহরের সমস্ত বিপজ্জনক বাড়ির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে যতক্ষণ না বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হয়, ততক্ষণ সাধারণ মানুষের জন্য এই ঝুঁকি থেকেই যাবে।
মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের এই দুর্ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, কলকাতার বহু পুরনো বাড়ি ভেঙে পড়ার মুখে রয়েছে, এবং যেকোনো সময় তা আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। 🚧🏚️