কেন যাদবপুর পেল না ‘উৎকর্ষকেন্দ্র’ !
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। একসময় ‘উৎকর্ষকেন্দ্র’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ল এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। কেন? সংসদে এই প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। জবাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার দাবি করলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাজেট কমানোর কারণেই যাদবপুর তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
কেন বাদ পড়ল যাদবপুর?
শুরুর পরিকল্পনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ৩,২৯৯ কোটি টাকার বাজেট নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই বাজেট কমিয়ে মাত্র ৬০৬ কোটি টাকায় নামিয়ে আনে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের বিশেষজ্ঞ কমিটি মনে করে, এই অর্থে ‘উৎকর্ষকেন্দ্র’ প্রকল্প সফল করা সম্ভব নয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) সুপারিশের ভিত্তিতে যাদবপুরকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
বিজেপির অভিযোগ
বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ পর্যবেক্ষক অমিত মালবীয় অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার নিজেদের অংশীদারি দিতে চায়নি, তাই কেন্দ্রের অনুদান থেকেও বঞ্চিত হয়েছে যাদবপুর। প্রথমে ১,০১৫ কোটি টাকার বাজেট নির্ধারিত হলেও তা ধাপে ধাপে ৬০৬ কোটিতে নেমে আসে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় অনুদান ছিল ৪২৪.২০ কোটি টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়কে সংগ্রহ করতে বলা হয় ১৫১.৫০ কোটি, আর রাজ্য সরকার বরাদ্দ দেয় মাত্র ৩০.৩০ কোটি টাকা।
বিজেপির দাবি, রাজ্য সরকারের অবহেলার কারণেই যাদবপুর এই সুবর্ণ সুযোগ হারিয়েছে। তারা বলছে, কেন্দ্র তো অর্থ দিতে রাজি ছিল, কিন্তু রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল জোগাড় করতে না চাওয়াতেই যাদবপুরের নাম বাদ পড়ে।
তৃণমূলের পাল্টা অবস্থান
এখনও পর্যন্ত রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বা শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পিতভাবে বাংলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে বঞ্চিত করছে। তারা মনে করছে, এটি রাজ্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ।
শিক্ষাঙ্গন থেকে রাজনীতি
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আগে থেকেই ছিল। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ওপর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে হামলা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে গাড়ির ধাক্কায় দুই শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদে শমীক ভট্টাচার্যের প্রশ্ন এবং সুকান্ত মজুমদারের জবাব বিজেপির জন্য আরেকটি রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
বিজেপি এখন রাজ্যজুড়ে প্রচার চালাচ্ছে, রাজ্য সরকারের গাফিলতিই যাদবপুরের এই সুযোগ হাতছাড়া করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল বলছে, কেন্দ্র বাংলার প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
যাদবপুরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই কাম্য নয়। আবার কেউ বলছেন, এটি কেন্দ্রের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
রাজ্য সরকার এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। তবে আপাতত ‘উৎকর্ষকেন্দ্র’ তালিকা থেকে বাদ পড়ার ফলে যাদবপুরের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য কেন্দ্রীয় অনুদান পাওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে গেল। এই বিতর্কের সমাধান হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে