মাঝরাতে তাণ্ডব, কর্তৃপক্ষ কোথায়? যাদবপুর কাণ্ডে গাফিলতির অভিযোগ, তদন্তের দাবিতে সরব সব পক্ষ

যাদবপুর কাণ্ডে গাফিলতির অভিযোগ! মধ্যরাতে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসে তাণ্ডবের ঘটনায় একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠছে। বহিরাগতদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ দেখান বামপন্থী পড়ুয়াদের একাংশ। পরে অখিল…

August 20, 2026
1 min read

যাদবপুর কাণ্ডে গাফিলতির অভিযোগ!

মধ্যরাতে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসে তাণ্ডবের ঘটনায় একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠছে। বহিরাগতদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ দেখান বামপন্থী পড়ুয়াদের একাংশ। পরে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও তদন্ত ও পুলিশি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেয়।

ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা এবং কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগ, বুধবার গভীর রাতে ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও উপাচার্য বা রেজিস্ট্রারকে পাওয়া যায়নি।

পুলিশের দাবি, ফোনেও মেলেনি কর্তৃপক্ষকে

পুলিশের দাবি, বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০০ নম্বরে ফোন করে পড়ুয়াদের একাংশ সাহায্য চেয়েছিলেন। এরপর স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু উপাচার্য, রেজিস্ট্রার কাউকেই ফোনে পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের দাবি।

বামপন্থী পড়ুয়াদেরও অভিযোগ, গোলমাল শুরু হওয়ার পর তাঁরা শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাতেও অশান্তি থামানো যায়নি।

যদিও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজ্যেশ্বর সিংহের বক্তব্য, সন্ধ্যার দিকে প্রথম দফার গোলমালের খবর কর্তৃপক্ষ পেয়েছিল। নিরাপত্তাকর্মীদেরও জানানো হয়েছিল। কিন্তু রাত ১২টার পর ফের যে বড় ধরনের গোলমাল শুরু হয়েছে, তার খবর তাঁরা সময়মতো পাননি। তবে কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশের দাবি

ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। রাজ্যেশ্বরের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হোক এবং তা সকলের সামনে আনা হোক। পাশাপাশি তিনি বিচারবিভাগীয় তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে বহিরাগতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

‘বহিরাগতেরা কী ভাবে ঢুকল?’

তদন্তের পাশাপাশি আরও একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—মধ্যরাতে এত জন বহিরাগত কী ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকলেন?

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তার বক্তব্য, নিরাপত্তারক্ষীদের পক্ষে অভ্যন্তরীণ গোলমাল সামলানো সম্ভব হলেও বাইরে থেকে পরিকল্পিত ভাবে লোকজন ঢুকে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এই ঘটনাতেই নিরাপত্তাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ্যে এসেছে বলে তাঁর দাবি।

প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ অবশ্য সরাসরি কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, রাতে ক্যাম্পাসে গিয়ে তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। যে প্রশাসন পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, তাদের ব্যর্থ বলেই গণ্য করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

পুলিশি তদন্ত চায় এবিভিপি-ও

অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও ঘটনার পুলিশি তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, রাতে ক্যাম্পাসে ঢোকা বহিরাগতেরা তাদের সদস্য নন। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

অন্যদিকে, আবুটা-র যাদবপুর শাখা মনে করছে, শুধু ক্যাম্পাসে পুলিশি প্রহরা বসিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা ও পরিকল্পনার অভাবই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

সব মিলিয়ে যাদবপুরের রাতের অশান্তির পর এখন তদন্তের দিকেই নজর। বহিরাগতেরা কারা ছিলেন, কী ভাবে তাঁরা ক্যাম্পাসে ঢুকলেন এবং সেই সময়ে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী ছিল—এই প্রশ্নগুলির উত্তরই নির্ধারণ করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *