মমতার নির্দেশেই পদত্যাগ!
পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় রায়কে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নির্দেশ পালন করতে মঙ্গলবার রাতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের চেতলার বাড়িতে গিয়ে নিজের ইস্তফার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রীকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং এসডিও-কেও পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন মলয়।
অমরাবতী মাঠ বিক্রির অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক
পানিহাটি পুরসভার নাগরিক পরিষেবা এবং প্রশাসনিক কার্যকলাপ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল। কিন্তু বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে অমরাবতী মাঠ বিক্রির অভিযোগ। শাসকদল তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, এই মাঠের একটি বড় অংশ আবাসন নির্মাণের জন্য বিক্রি করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছালে তিনি হস্তক্ষেপ করেন এবং রাজ্য সরকার প্রায় ৮৫ বিঘার ওই মাঠ অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
এই ঘটনার পরেই পুরপ্রধানকে সরানোর নির্দেশ আসে দলীয় উচ্চস্তর থেকে। শনিবার মলয়কে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও সোমবার পর্যন্ত তিনি সিদ্ধান্ত নিতে রাজি হননি। এরপর মঙ্গলবার বিধানসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক ও পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষের ঘর থেকে তাঁকে ফোন করেন ফিরহাদ হাকিম এবং দ্রুত পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
ফিরহাদের বাড়িতে গিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত
রাতে ফিরহাদের চেতলার বাড়িতে গিয়ে আলোচনার পর নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন মলয়। মন্ত্রীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন,
“মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যখন আমার পদত্যাগপত্র চেয়েছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আমাকে তাঁর নির্দেশ পালন করতে হবে। মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে, তিনিও আমাকে ফোন করেছিলেন। তাই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং যথাযথভাবে তা দাখিল করব।”
অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ নয়, বরং কৃতজ্ঞতা
মলয়ের বিরুদ্ধে অমরাবতী মাঠ বিক্রির অভিযোগের তদন্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। প্রশাসনিক তদন্তের পরই মলয়কে সরানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তবে এ বিষয়ে মলয় কোনও ক্ষোভ প্রকাশ করেননি। বরং তিনি বলেছেন,
“এই তিন বছরে পুরপ্রধান হিসেবে কাজ করতে গিয়ে ববিদার (ফিরহাদ হাকিম) অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। আমাদের রাস্তাঘাট, আলো-সহ নানা পরিকাঠামো উন্নয়নে তিনি সবসময় সাহায্য করেছেন। তাই তাঁর আশীর্বাদ নিয়েই আমি এগিয়ে যাব। পানিহাটি উন্নয়নের দিকেই এগোবে।”
নতুন পুরপ্রধান কে হচ্ছেন?
শাসকদলের সূত্র অনুযায়ী, মলয়ের জায়গায় পানিহাটির নতুন চেয়ারম্যান হতে পারেন সোমনাথ দে। তিনি বর্তমানে পূর্ত দফতরে কর্মরত এবং এর আগে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন। অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার ভিত্তিতে তাঁকে পুরপ্রধান করা হতে পারে।
এভাবে, পানিহাটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মলয় রায় সরে দাঁড়ালেও, নতুন চেয়ারম্যান কীভাবে পানিহাটির উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে