বলিউডে গান গাওয়া মানে সঙ্গীত বেচে দেওয়া – এপি ঢিলোঁ!
বলিউডে গান গাওয়া যে একজন গায়কের ক্যারিয়ারের একটি বড় সুযোগ হতে পারে, তা সকলেই জানে। তবে পঞ্জাবি গায়ক এপি ঢিলোঁ (AP Dhillon) কিন্তু এই ধারণা মেনে নিতে রাজি নন। তিনি নিজের সুর এবং সঙ্গীতের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেন এবং বলিউডের বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে চান। সম্প্রতি তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলিউডের গান এবং তার সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে নিজস্ব দর্শন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
এপি ঢিলোঁ একজন প্রতিষ্ঠিত পঞ্জাবি গায়ক, এবং ভারতে তার খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অনেকটাই পজিটিভ দিকে রয়েছে। দিলজিৎ দোসাঞ্জ, করণ অউজলা প্রমুখের পরে, পঞ্জাবি গায়কদের মধ্যে তার নাম শীর্ষে আসে। তবে, তিনি সবসময় বলিউডে গান গাওয়ার জন্য তাড়া করেননি, বরং সে বিষয়টি নিয়ে তার এক পুঙ্খানুপুঙ্খ মতামত রয়েছে। অনেকেই তার কাছে প্রশ্ন করেছেন, কেন তিনি হিন্দি ছবিতে গান গাইছেন না, যদিও তিনি একজন সফল পঞ্জাবি গায়ক। এ বিষয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন তিনি।
এপি ঢিলোঁ বললেন, “ছবি থেকে আমি আপাতত দূরে। আমার গান, আমার সুর বেচে দিতে চাই না। আর মানুষকে যা খুশি তাই করতে দেব না আমার সুর নিয়ে।” তার এই বক্তব্যে সঙ্গীতের স্বাধীনতা এবং স্বতন্ত্রতা রক্ষার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এপি ঢিলোঁ মনে করেন, একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে নিজস্ব সুর এবং সঙ্গীতের প্রতি পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা উচিত, এবং তিনি সে বিষয়ে কোনও আপস করতে চান না। তার মতে, শৈল্পিক স্বাধীনতা যদি হারিয়ে যায়, তবে সঙ্গীতের প্রকৃত সৌন্দর্যও হারিয়ে যায়।
এপি আরও যোগ করেন, “হয়তো আমি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারব, বিশেষত উদীয়মান শিল্পীদের কাছে।” তিনি চান, যে কোনো সঙ্গীতশিল্পী নিজের সঙ্গীত নিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং তার শৈল্পিক মর্যাদা বজায় রেখে চলতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন, সঙ্গীত জগতে পরিবর্তন আনার জন্য, একজন শিল্পীকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং বাণিজ্যিক দিক থেকে কখনও কখনও আপোস করা প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু কখনোই নিজের সুরকে বিক্রি করে দেওয়া উচিত নয়।
এপি ঢিলোঁ বলিউডের বাণিজ্যিক দিক সম্পর্কে সচেতন। তিনি জানান, “বাণিজ্যিক দিক থেকে লাভবান হওয়া যায় কারণ বাজেট বেশি। শ্রোতার সংখ্যাও অধিক। স্ট্রিমিংয়ে সমস্যা হয় না।” তবে, তিনি এও বলেন, এসব দিক চিন্তা করলেও, তার লক্ষ্য কখনও সঙ্গীতের প্রতি তার শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি হারানো নয়। এপি জানিয়ে দেন, “এমন যেন কখনও মনে না হয়, যে আমি পরিবর্তন আনতে পারতাম কিন্তু আমি তা করলাম না!” তার মানে, তিনি চান নিজের সঙ্গীতের মাধ্যমে কিছু নতুন দৃষ্টিভঙ্গি বা পরিবর্তন আনতে, যা আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে।
এপি ঢিলোঁ বলিউডে গান না গাওয়ার একটি বড় কারণ হিসাবে বলছেন, “বলিউডে গান গাওয়ার কিছু সুবিধা রয়েছে, কিন্তু আমি চাই না সেগুলোর প্রভাবে আমার সুর এবং সঙ্গীতের স্বাধীনতা কমে যাক।” তিনি বিশ্বাস করেন, একজন সঙ্গীতশিল্পী নিজের মূল সত্তা এবং দর্শন ধরে রেখে চললে তার কাজ আরও অর্থবহ হতে পারে।
তবে, বলিউডে গান গাওয়ার যে লাভজনক দিক রয়েছে তা তিনি অস্বীকার করেননি। বাজেটের দিক থেকে লাভ, দর্শক সংখ্যা এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে গান ছড়ানোর সুবিধা থাকলেও, এপি ঢিলোঁ চান না তার সঙ্গীত তার শর্তের বাইরে চলে যাক। তিনি জানান, কখনও কখনও শিল্পীকে নিজের শর্তাবলীতে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, এবং তাকে কখনও নিজের সুর বেচে দেওয়া উচিত নয়।
এপি ঢিলোঁ তার বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন, তা হলো— সঙ্গীত শিল্পীদের জন্য শৈল্পিক স্বাধীনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, এককভাবে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার মাধ্যমে একজন সঙ্গীতশিল্পী সঙ্গীতের জগতে টিকে থাকতে পারেন এবং এই শিল্পকে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপহার দিতে পারেন।