বিহারে বিধানসভা ভোটে এনডিএ জিতলে নীতীশই মুখ্যমন্ত্রী
২০২৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বিহারে বিধানসভা ভোট অনুষ্ঠিত হবে, তবে সেই নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপি ইতিমধ্যেই জোটের নেতা হিসেবে নীতীশ কুমারের নাম ঘোষণা করল। এনডিএ-র (ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স) মধ্যে নীতীশ কুমারের মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, সেই জল্পনা দূর করতে এই ঘোষণা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির এই পদক্ষেপকে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যস্তরের নেতাদের যৌথ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য বিহারের নির্বাচনী আবহে কোনো ধরনের গণ্ডগোল বা দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া রোধ করা।
নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে বিহারে এনডিএ নির্বাচন করবে
বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব হরিয়ানার সূরজকুন্ডে দু’দিনের বৈঠক করেছে, যেখানে বিহারের রাজনীতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে বিহার বিজেপির সভাপতি দিলীপ জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট ঘোষণা করেন, “নীতীশ কুমারের নেতৃত্বেই আমরা বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ব। মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে এটি পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, এনডিএ জিতলে নীতীশ কুমারই বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন, যেমনটি আগে থেকেই জানানো হয়েছিল।
মহারাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
এতদিন পর্যন্ত, মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল একটি বিশাল উদ্বেগের বিষয়। শিবসেনা (শিন্ডে)-র একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে বিজেপি মহারাষ্ট্রে বিপুল জয় লাভ করলেও, পরবর্তীতে বিজেপি-র নীতিতে পরিবর্তন আসে। একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বের পর, বিজেপি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পদে তাদের নিজস্ব নেতা দেবেন্দ্র ফডণবীসকে ফিরিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনা বিহারে সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করা নীতীশ কুমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কি বিজেপি বিহারের নির্বাচনে জিতলে, নীতীশ কুমারের ভাগ্যও কি শিন্ডের মতো হবে?
নির্বাচনী অনিশ্চয়তা এবং এনডিএর ভেতর সমন্বয়ের চেষ্টা
এমতাবস্থায়, বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এনডিএ-এর মধ্যে কোনও ধরনের বিভ্রান্তি বা অস্থিরতা যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য বিজেপি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিহারের রাজনীতির এই অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হলে, তা এনডিএ-র অন্দরে টানাপড়েন সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, বিজেপি নিজের দলের নেতা হিসেবে নীতীশ কুমারকে সামনে রেখে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। তাদের মতে, নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ এখনও অনেকটা সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজেপির উপর নির্ভরশীল, বিশেষত লোকসভায়।
মোদী সরকারের সঙ্গে জেডিইউ-এর সম্পর্ক
মোদী সরকারের তরফে বিহারে জেডিইউ-এর উপর কিছুটা নির্ভরশীলতা রয়েছে, বিশেষ করে লোকসভায় বিজেপি অধিকাংশ আসনে এককভাবে জয়ী হতে পারে না। গত কয়েক বছর ধরে, নীতীশ কুমারের জেডিইউ-এর ভোটব্যাঙ্কের একটি অংশ মোদী সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, বিজেপি এই জোটে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য, নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিভ্রান্তি না ঘটে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিজেপি-র এই পদক্ষেপ কেবল নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করছে না, বরং বিহারের নির্বাচনকেও আরও স্থিতিশীল করছে। তারা মনে করছেন, যদি কোনো ধরনের জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তা শুধুমাত্র রাজ্য নির্বাচন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।
উপসংহার
এনডিএ-র মধ্যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা বিভাজন যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য বিজেপি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে নীতীশ কুমারের নেতৃত্বেই লড়াই করবে বিজেপি, এমনটাই ঘোষণা করেছে দল। এই ঘোষণা বিহারের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা দূর করতে সহায়ক হতে পারে, যদিও পরবর্তী নির্বাচনী পরিস্থিতি কী হবে তা নিয়ে এখনই কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।