কুরাসাওকে ইতিহাসের স্বাদ দিলেন রুম!
বিশ্বকাপের মঞ্চে ছোট দলের লড়াই অনেক সময় বড় গল্প তৈরি করে। তেমনই এক অবিশ্বাস্য গল্প লিখলেন কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রুম। ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে একাই প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ৯০ মিনিটে ১৫টি দুরন্ত সেভ করলেন তিনি। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট পেল কুরাসাও।
প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-০ গোলে হারের পর অনেকেই কুরাসাওকে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে রুম বুঝিয়ে দিলেন, ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ সামলে ৩৭ বছরের এই গোলরক্ষক দেশকে শুধু একটি পয়েন্টই এনে দেননি, সম্মানও ফিরিয়ে দিয়েছেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই কুরাসাওয়ের উপর চাপ তৈরি করেছিল ইকুয়েডর। প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখে আক্রমণ চালায় তারা। গোল লক্ষ্য করে ২৭টিরও বেশি শট নেয় ইকুয়েডর, যার মধ্যে ১৫টি ছিল গোলের লক্ষ্যে। কিন্তু রুমের দুর্ভেদ্য দেয়াল ভাঙতে পারেনি তারা।
ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটেই এননার ভ্যালেন্সিয়ার শট আটকে দিয়ে শুরু করেছিলেন রুম। তার পর পুরো ম্যাচ জুড়ে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে যান তিনি।
এই পারফরম্যান্সের সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছেন রুম। ৯০ মিনিটের ম্যাচে কোনও গোলরক্ষকের করা সবচেয়ে বেশি সেভের রেকর্ড এখন তাঁর দখলে। এর আগে ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে পেরুর র্যামোন কুইরোগা ১৩টি সেভ করেছিলেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে আমেরিকার Tim Howard ১৫টি সেভ করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই ম্যাচ গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে। তাই ৯০ মিনিটের মধ্যে রুমের কীর্তি অনন্য।
ম্যাচ শেষে রুম বলেন, “এটা এমন একটা স্মৃতি, যা সারাজীবন মনে থাকবে। গোলরক্ষক হিসাবে প্রায় নিখুঁত একটা ম্যাচ খেলেছি। তবে এটা শুধু আমার নয়, পুরো দলের সাফল্য।”
আসলে রুমের আত্মবিশ্বাসের গল্প শুধু বিশ্বকাপের এই ম্যাচে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বেও তাঁর মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল। জামাইকার বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি রেফারিকে জানিয়েছিলেন, সিদ্ধান্ত বদল না হলেও তিনি সেই পেনাল্টি আটকে দিতে প্রস্তুত। পরে ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়।
রুমের ফুটবলযাত্রাও বেশ আলাদা। জন্ম নেদারল্যান্ডসে হলেও তিনি নিজের জাতীয় দল হিসেবে বেছে নিয়েছেন কুরাসাওকে। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে কুরাসাওয়ে গিয়ে দেশটির প্রতি আলাদা টান তৈরি হয়েছিল তাঁর। ২০১৫ সালে কুরাসাওয়ের জাতীয় দলে ডাক পান তিনি এবং পরে দলের অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠেন।
রুম জানিয়েছেন, তিনিই প্রথম নাগরিকত্ব পরিবর্তন করে কুরাসাওয়ের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে আরও অনেক ফুটবলার সেই পথে হাঁটেন।
কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা মাত্র দেড় লক্ষের মতো। সেই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে রুম এখন দেশের সবচেয়ে বড় নায়ক। যে দেশকে তিনি নিজের ঘর বলে বেছে নিয়েছিলেন, সেই দেশকেই বিশ্বমঞ্চে নতুন পরিচয় দিলেন এই গোলরক্ষক।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?