বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন কি পরের বিশ্বকাপেই খেলবে না? ফিফার নতুন পরিকল্পনায় বয়কটের হুঁশিয়ারি উয়েফার

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন কি পরের বিশ্বকাপেই খেলবে না? ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হতেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে বিশ্ব ফুটবল। সদ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেনের পরবর্তী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ, ফিফার নতুন…

July 29, 2026
1 min read

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন কি পরের বিশ্বকাপেই খেলবে না?

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হতেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে বিশ্ব ফুটবল। সদ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেনের পরবর্তী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ, ফিফার নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে ইউরোপের ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা উয়েফা (UEFA)। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, প্রয়োজনে ৫৫টি ইউরোপীয় দেশ বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ESPN-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা যদি বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক পরিচালনার একটি অংশ বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে পারে উয়েফা। ইতিমধ্যেই সদস্য দেশগুলির ফুটবল সংস্থাগুলিকে নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।

এর ফলে প্রশ্ন উঠছে— স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ইতালির মতো ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলো কি সত্যিই পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলবে না?

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে আরেকটি বিষয়। আগামী বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব রয়েছে স্পেন, পর্তুগাল এবং মরক্কোর উপর। আয়োজক তিন দেশের মধ্যে স্পেন ও পর্তুগাল উয়েফার সদস্য। যদি ইউরোপীয় দেশগুলো সত্যিই বয়কটের পথে হাঁটে, তাহলে আয়োজক দেশগুলির অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

ফিফার পরিকল্পনার বিরোধিতা করে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম মন্তব্য করেছেন, “ফুটবল কোনও বিনিয়োগকারীর সম্পত্তি নয়।” একই সুরে উয়েফাও জানিয়েছে, ফুটবলকে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক সম্পদ হিসেবে দেখা উচিত নয়। সংস্থার বক্তব্য, “ফুটবলের আত্মা বিক্রি করা যায় না। আমরা কেউ ফুটবলের মালিক নই, আর ফুটবলও ফিফার একার সম্পত্তি নয়।”

এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফিফার প্রস্তাবিত ‘FIFA Forward Enterprises’। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই সংস্থা বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সংস্থার প্রায় ২১ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় ফিফা।

সংস্থার দাবি, এই অর্থ ‘FIFA Fast Forward Program’-এর মাধ্যমে বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি, এই প্রকল্পে আর্থিক পরামর্শ দিচ্ছে JP Morgan। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, নতুন সংস্থার নেতৃত্বে আসতে পারেন জোশুয়া কুশনার, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের ভাই। এই সম্ভাবনাও বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

যদিও পুরো পরিকল্পনাটি এখনও আলোচনার স্তরেই রয়েছে এবং বাস্তবায়নের আগে সদস্য দেশগুলির অনুমোদন প্রয়োজন, তবুও উয়েফার কঠোর অবস্থান বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যদি দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছতে না পারে, তাহলে আগামী বিশ্বকাপের আগে ফুটবল দুনিয়ায় নজিরবিহীন সংঘাত দেখা দিতে পারে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *