৭৫ কোটির খেলা! আইপিএলের ‘রিটেনশন’
আইপিএলের নিলামের আগে কোন কোন ক্রিকেটারকে ধরে রাখবে দলগুলি, তা জানা যাবে আজ বৃহস্পতিবার। এই রিটেনশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলগুলোকে কত টাকা খরচ করতে হবে এবং কিভাবে ক্রিকেটার ধরে রাখতে হবে, সেটি জানানো হচ্ছে। এবার দেখা যাক এই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত।
দলে ক্রিকেটার রাখার সংখ্যা
আইপিএলে দলগুলো সর্বাধিক ছ’জন ক্রিকেটারকে ধরে রাখতে পারে। তবে নিলামের আগে সর্বাধিক পাঁচ জনকে ধরে রাখার নিয়ম আছে। এছাড়া, নিলামের সময় রাইট-টু-ম্যাচ (আরটিএম) কার্ডের মাধ্যমে একজন ক্রিকেটারকে ফেরানো যেতে পারে। যদি কোনো দল পাঁচ জনের কম ক্রিকেটার ধরে রাখে, তাহলে বাকি ক্রিকেটারকে ফেরানোর জন্য আরটিএম ব্যবহার করতে পারবে। এর মানে হলো, যদি একটি দল তিন জন ক্রিকেটারকে ধরে রাখে, তাহলে তারা নিলামে আরটিএমের মাধ্যমে তিন জন ক্রিকেটারকে নিতে পারবে। সব মিলিয়ে মোট ছ’জনকে ‘রিটেন’ করা সম্ভব।
ক্রিকেটার ধরে রাখার নিয়ম
ছ’জনের মধ্যে অন্তত এক জন ক্রিকেটারকে আনক্যাপড হতে হবে, অর্থাৎ যে ক্রিকেটার কখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি বা পাঁচ বছর আগে অবসর নিয়েছেন। অন্যদিকে, ক্যাপড অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সর্বাধিক পাঁচ জন ক্রিকেটারকে দলে রাখা যাবে। তবে দু’জনের বেশি আনক্যাপড ক্রিকেটারকে ধরে রাখা যাবে না।
খরচের পরিমাণ
রিটেনশনের সময় বোর্ডের তরফ থেকে পাঁচ জন ক্রিকেটারের জন্য নির্দিষ্ট দর বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পাঁচ জন ক্রিকেটারের জন্য সর্বাধিক ৭৫ কোটি টাকা খরচ করা যাবে। এই পাঁচ ক্যাপড ক্রিকেটারের জন্য খরচের ভাগ হবে এভাবে— প্রথম জনের দাম ১৮ কোটি টাকা, দ্বিতীয় জনের ১৪ কোটি টাকা, তৃতীয় জনের ১১ কোটি টাকা, চতুর্থ জনের ১৮ কোটি টাকা এবং পঞ্চম জনের ১৪ কোটি টাকা। এছাড়া, প্রতিটি আনক্যাপড ক্রিকেটার ধরে রাখার জন্য ৪ কোটি টাকা খরচ করতে হবে।
খরচ বাড়ানো বা কমানো
দলগুলো এই খরচের পরিমাণ বাড়াতে বা কমাতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি দল প্রথম ক্রিকেটারের জন্য ১৮ কোটির বদলে ২৩ কোটি টাকা, দ্বিতীয় জনের জন্য ১৪ কোটির বদলে ১৮ কোটি টাকা, তৃতীয়ের জন্য ১১ কোটির বদলে ১৪ কোটি টাকা এবং চতুর্থের জন্য ১৮ কোটির বদলে ১৪ কোটি টাকা খরচ করে, তবে এই পরিস্থিতিতে বোর্ডের বেঁধে দেওয়া টাকার থেকে যে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হয়েছে, সেটি সংশ্লিষ্ট দলের পুঁজির (প্রত্যেক দলের ক্ষেত্রে ১২০ কোটি টাকা) থেকে কাটা যাবে।
যদি বোর্ডের নির্ধারিত টাকার থেকে কম টাকা দেওয়া হয়, তবে সেক্ষেত্রে বোর্ডের বেঁধে দেওয়া টাকাই দলের পুঁজির থেকে কাটা যাবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, যদি চতুর্থ এবং পঞ্চম ক্রিকেটারের জন্য কম টাকা খরচ করা হয়, তবে তাও দলের পুঁজির থেকে কাটা হবে।
রিটেনশনের সময়সীমা
ক্রিকেটার ধরে রাখার তালিকা জানানোর শেষ দিন ৩১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার। সব দলকে বিকেল ৫টার মধ্যে তাদের তালিকা জানিয়ে দিতে হবে।
কোথায় দেখা যাবে?
আইপিএলের রিটেনশন তালিকা টিভিতে সম্প্রচার করা হবে। স্টার স্পোর্টস চ্যানেলে বিকেল ৪টা থেকে সম্প্রচার শুরু হবে। এছাড়া, জিয়োসিনেমা অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটেও দেখা যাবে, যেখানে বিকেল ৪:৩০ থেকে সম্প্রচার শুরু হবে।
আইপিএলে ক্রিকেটার রিটেনশন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যা দলগুলোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা, ক্রিকেটারদের মূল্য এবং তাদের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে এই প্রক্রিয়া চলবে। ৭৫ কোটির খেলার এই পদ্ধতি আগামীদিনের আইপিএল মুখোশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে। সব দলের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা উভয়ই।