৩৫ বছরে থমকে গেল জীবন! তীর্থে যাওয়ার পরিকল্পনা করেও চরম পদক্ষেপ নীতিন চৌহানের

৩৫ বছরে থমকে গেল জীবন মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই থমকে গেল এক তরুণ অভিনেতার জীবন। শুক্রবার, ৮ নভেম্বর ২০২৪, নীতিন চৌহান নামে জনপ্রিয় অভিনেতা আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ‘স্প্লিটস্‌ভিলা ৫’-এর প্রতিযোগী…

November 8, 2024
1 min read

৩৫ বছরে থমকে গেল জীবন

মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই থমকে গেল এক তরুণ অভিনেতার জীবন। শুক্রবার, ৮ নভেম্বর ২০২৪, নীতিন চৌহান নামে জনপ্রিয় অভিনেতা আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ‘স্প্লিটস্‌ভিলা ৫’-এর প্রতিযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, পাশাপাশি ‘দাদাগিরি ২’, ‘ক্রাইম পেট্রোল ২’, ‘তেরা ইয়ার হুঁ ম্যায়’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র জগৎ শোকস্তব্ধ।

নীতিন চৌহান উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের বাসিন্দা ছিলেন। কর্মসূত্রে মুম্বইতে থাকতেন, যেখানে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল। ২০২২ সালে ‘তেরা ইয়ার হুঁ ম্যায়’ ধারাবাহিকে তাঁর শেষ অভিনয় দেখা গিয়েছিল। ওই সময় থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছুটা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, তবে তা নিয়ে কেউই নিশ্চিত ছিল না।

নির্বাণের আগে পরিকল্পনা ছিল তীর্থে যাওয়ার

নীতিনের মৃত্যু সংবাদ প্রথমে তাঁর বন্ধুরা এবং সহ-অভিনেতারা শোনান। এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু কুলদীপ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে নীতিনের পরিবারের পক্ষ থেকে ফোন আসে এবং জানানো হয় যে, নীতিন আর নেই। মৃত্যুর খবর শুনে কুলদীপের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে, বিশেষ করে যেহেতু তারা আগামী মাসে রাজস্থানের খটু শ্যামের মন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কুলদীপ জানিয়েছেন, নীতিনের মধ্যে এমন কিছু ছিল যা তাকে সব সময় বন্ধুদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করত। বন্ধুর যাতায়াত বা কোনো পরিকল্পনা অনুযায়ী অসুবিধা যাতে না হয়, সে ব্যাপারে সেও অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। বন্ধুর সঙ্গে তীর্থে যাওয়ার কথা থাকলেও, কেন এমন চরম পদক্ষেপ নিলেন, তা তাঁর বন্ধু আজও বুঝে উঠতে পারেননি।

নীতিনের বন্ধুর দুঃখ এবং অনুতপ্ত মন

নীতিনের বন্ধু কুলদীপ বলেন, “নীতিন একে অপরকে সব কথা ভাগ করে নিত। সে কখনওই একাকী কিছু করার সিদ্ধান্ত নিত না। জীবনের কঠিন সময়গুলোও আমরা একসঙ্গে মোকাবিলা করতাম। যদি সে আমাকে ফোন করত, তবে আমি তাকে এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে বাধা দিতাম। আমরা সব সময় পরস্পরের পাশে থাকতাম। সে এমন কিছু তো ভাবেনি।” তাঁর মতে, নীতিনের মৃত্যু একটি অসম্ভব ঘটনা, যা কোনোভাবেই তাদের মধ্যে ছিল না।

নীতিনের মৃত্যু প্রাক্কালে তাঁকে বহুবার মুম্বইয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে অনেক স্মৃতি ছিল, যেগুলো এখন কেবল অম্লান হয়ে গেছে। কুলদীপ বলেন, “আমাদের জীবনে নীতিন ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা সব সময় একে অপরের সহায়ক ছিলাম। কিন্তু এখন সে আর নেই, আমরা সেই স্মৃতিগুলির মধ্যে আটকে আছি।”

নীতিনের পরিবারের শোক

নীতিনের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর পরিবারও চূড়ান্ত শোকের মধ্যে পড়ে। তাঁর বাবা, যিনি আলিগড় থেকে মুম্বইয়ের দিকে রওনা হয়েছেন, ছেলের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য দিল্লিতে যেতে প্রস্তুত। সেই সঙ্গে নীতিনের সহ-অভিনেতা সুদীপ সাহি এবং সায়ন্তনী ঘোষও মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন এবং গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মুম্বই পুলিশের তদন্ত

মুম্বই পুলিশ এই ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, এটি আত্মহত্যা ছিল। কিন্তু ঠিক কী কারণে নীতিন এমন পদক্ষেপ নিলেন, তা এখনো পরিষ্কার হয়নি। নীতিনের বন্ধু কুলদীপেরও এমন কোনো ধারণা নেই যে, তার জীবনে এমন কী ঘটেছিল যা তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। সে কোনো আর্থিক সমস্যা বা কোনো মানসিক চাপের মধ্যে ছিল না বলে তিনি জানান।

অভিনেতার জীবন এবং অবস্থা

নীতিনের মতো তরুণ অভিনেতার আত্মহত্যা সাধারণত শোকের কারণ হয়ে থাকে। একদিকে যেখানে অনেক প্রতিভাবান মানুষ তার ভবিষ্যত উজ্জ্বল করতে কাজ করে, সেখানে এই ধরনের চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা অভিনয় জগতের সাথে জড়িত, তারা জানেন যে এই পথে চলতে গিয়ে একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। ব্যক্তি জীবনের মানসিক চাপ, পেশাগত চাপ, অর্থনৈতিক সমস্যা—এসব কারণে অনেকেই উদ্বিগ্ন থাকেন। তবে নীতিনের মৃত্যু এক অজানা প্রশ্ন রেখে গেছে, কেন তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলো।

উপসংহার

নীতিন চৌহান শুধু একজন প্রতিভাবান অভিনেতা ছিলেন না, তিনি একজন সত্যিকারের বন্ধু এবং সহকর্মী ছিলেন। তাঁর বন্ধুরা জানান, নীতিন সর্বদা পরস্পরের খেয়াল রাখতেন, তবে তাঁর জীবনের অপ্রত্যাশিত সমাপ্তি এই শোকের কারণ হয়ে উঠেছে। তাঁর আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তদন্ত চলছে, তবে শোকের এই মুহূর্তে তার স্মৃতির মধ্যেই তাঁর উপস্থিতি চিরকাল বেঁচে থাকবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *