বিশ্বকাপের মঞ্চে ফ্যাশনেই জানালেন বিশেষ শ্রদ্ধা!
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হাফটাইম শো। আর সেই ঐতিহাসিক মঞ্চে উপস্থিত হয়ে আবারও নজর কাড়লেন পপতারকা শাকিরা। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে তাঁর পরিবেশনা যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, তেমনই আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর ঝলমলে পোশাকের নেপথ্যের গল্প। ২০১০ সালের ‘ওয়াকা ওয়াকা’-র স্মৃতি যেন নতুন করে ফিরিয়ে আনলেন তিনি।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শাকিরা যখন মঞ্চে ওঠেন, তখন তাঁর পরনে ছিল বিশেষভাবে তৈরি একটি ঝলমলে বডিস্যুট। সোয়ারভস্কির তথ্য অনুযায়ী, পোশাকটিতে বসানো হয়েছিল ২ লক্ষেরও বেশি ক্রিস্টাল। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে ১২০ ঘণ্টারও বেশি, আর প্রতিটি কারুকাজই করা হয়েছে হাতে। গাঢ় গোলাপি ও হলুদ রঙের শিফনের দীর্ঘ স্কার্ট তাঁর নাচের প্রতিটি মুহূর্তে আলাদা মাত্রা যোগ করেছিল।
তবে এই পোশাক শুধুই গ্ল্যামারের জন্য নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আবেগও। অনেকের নজরে এসেছে, পোশাকটির নকশা ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে শাকিরার পরা বিখ্যাত পোশাকগুলির সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে। সেই বিশ্বকাপেই ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গানটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
২০১০ সালের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে শাকিরার পোশাক ডিজাইন করেছিলেন কিংবদন্তি ইতালীয় ফ্যাশন ডিজাইনার Roberto Cavalli। ২০২৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পর এই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরা এমন একটি পোশাক বেছে নিলেন, যা অনেকের মতে ক্যাভাল্লির সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য।
এক সাক্ষাৎকারে শাকিরা নিজেই জানিয়েছেন, এবারের পোশাকের মাধ্যমে তিনি অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করতে চেয়েছেন। তাঁর কথায়, এই ডিজাইন যেন একটি পূর্ণ বৃত্তের প্রতীক— ২০১০ সালের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতের দিকেও তাকিয়ে থাকা। একই ধরনের রঙের ব্যবহারও সেই ভাবনাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে তাঁর পরিবেশনায় ছিল নতুন গান ‘দাই দাই’-এর সঙ্গে ‘ওয়াকা ওয়াকা’-র আবেগও। ফলে ১৬ বছর আগের স্মৃতি যেন আবার ফিরে আসে ফুটবলপ্রেমীদের মনে। দর্শকদের কাছে এটি শুধু একটি সঙ্গীতানুষ্ঠান ছিল না, বরং বিশ্বকাপের ইতিহাস, ফ্যাশন এবং ব্যক্তিগত স্মৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?