২,০০০ বছর আগে মিশরের ‘ভ্যালি অফ দ্য কিংস’-এ পৌঁছেছিলেন এক ভারতীয়! প্রাচীন তামিল লিপিতে মিলল রহস্যময় নামের খোঁজ

২,০০০ বছর আগে মিশরের ‘ভ্যালি অফ দ্য কিংস’-এ পৌঁছেছিলেন এক ভারতীয়!! মিশরের বিখ্যাত ‘ভ্যালি অফ দ্য কিংস’-এ সাম্প্রতিক গবেষণায় মিলেছে এক চমকপ্রদ আবিষ্কার। ফারাওদের রাজকীয় সমাধির দেওয়ালে ভারতীয় ভাষায় লেখা…

July 2, 2026
1 min read

২,০০০ বছর আগে মিশরের ‘ভ্যালি অফ দ্য কিংস’-এ পৌঁছেছিলেন এক ভারতীয়!!

মিশরের বিখ্যাত ‘ভ্যালি অফ দ্য কিংস’-এ সাম্প্রতিক গবেষণায় মিলেছে এক চমকপ্রদ আবিষ্কার। ফারাওদের রাজকীয় সমাধির দেওয়ালে ভারতীয় ভাষায় লেখা প্রায় ৩০টি প্রাচীন শিলালিপি শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। এর মধ্যে অন্তত ২০টি লেখা রয়েছে তামিল-ব্রাহ্মী লিপিতে, যা প্রায় ২,০০০ বছরের পুরনো বলে মনে করা হচ্ছে। এই আবিষ্কার প্রাচীন ভারত ও মিশরের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একটি নাম— ‘সিকাই কোরান’। গবেষকদের মতে, দক্ষিণ ভারতের তামিলভাষী অঞ্চলের এই ব্যক্তি প্রায় দুই হাজার বছর আগে মিশরে গিয়ে একাধিক রাজকীয় সমাধির দেওয়ালে নিজের নাম খোদাই করেছিলেন। অন্তত পাঁচটি পৃথক সমাধিতে তাঁর নামের সন্ধান মিলেছে।

একটি শিলালিপিতে লেখা রয়েছে, “সিকাই কোরান এখানে এসে দেখেছিল।” গবেষকদের ধারণা, এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে কোনও ভারতীয় পর্যটকের রেখে যাওয়া প্রাচীনতম ব্যক্তিগত পরিচয়ের নিদর্শনগুলির একটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খ্রিস্টীয় প্রথম থেকে তৃতীয় শতাব্দীর মধ্যে বহু ভারতীয় বণিক, পর্যটক ও ভ্রমণকারী মিশরে আসতেন। তাঁদের কেউ কেউ তামিল, সংস্কৃত, প্রাকৃত এবং গান্ধার-খরোষ্ঠী লিপিতে নিজেদের উপস্থিতির চিহ্ন রেখে গিয়েছেন। তবে সব শিলালিপির মধ্যে বারবার যে নামটি উঠে এসেছে, তা হল ‘সিকাই কোরান’।

গবেষকদের ব্যাখ্যায়, ‘সিকাই’ শব্দটির উৎস সম্ভবত সংস্কৃত ‘শিখা’ এবং ‘কোরান’ তামিল শব্দ, যার অর্থ ‘বিজয়’। এমন নামের পুনরাবৃত্তি থেকে অনুমান করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি হয়তো সমাধিগুলি ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা স্মরণীয় করে রাখতে সচেতনভাবেই বিভিন্ন স্থানে নিজের নাম লিখেছিলেন।

২০২৪ সালে মিশরের সমাধিগুলি পরিদর্শনের সময় লোজান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইঙ্গো স্ট্রাউচ প্রথম এই অচেনা লিপিগুলি লক্ষ্য করেন। পরে তাঁর তোলা ছবিগুলি বিশ্লেষণ করে গবেষক শার্লট শ্মিড নিশ্চিত করেন যে সেগুলি প্রাচীন তামিল ভাষায় লেখা। জানা যায়, নবম রামসেসের সমাধির প্রবেশপথের প্রায় ১৬ থেকে ২০ ফুট উঁচুতেও ‘সিকাই’-এর নাম খোদাই করা রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন জায়গায় নাম লিখেছিলেন, যাতে তা সহজে নজরে পড়ে।

ইতিহাস বলছে, টলেমীয় ও রোমান যুগে মিশরের রাজকীয় সমাধিগুলি ছিল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। গ্রিক, রোমান, নুবীয়দের পাশাপাশি ভারতীয় ভ্রমণকারীরাও সেখানে যেতেন এবং অনেক সময় নিজেদের নাম বা মন্তব্য পাথরে খোদাই করে রেখে আসতেন। একই সময়ে লোহিত সাগর ঘিরে ভারত ও মিশরের মধ্যে সক্রিয় বাণিজ্যেরও বহু প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ মিলেছে।

গবেষকদের মতে, হাজার বছরের প্রাকৃতিক ক্ষয়, রাজনৈতিক পালাবদল এবং অসংখ্য মানুষের আনাগোনার পরেও এই শিলালিপিগুলি টিকে থাকা এক অসাধারণ ঘটনা। সেই সঙ্গে এগুলি প্রমাণ করে, প্রাচীন বিশ্বের সভ্যতাগুলি কখনও বিচ্ছিন্ন ছিল না; বরং বাণিজ্য, ভাষা, ভ্রমণ ও সংস্কৃতির মাধ্যমে ভারত ও মিশরের মতো দূরবর্তী অঞ্চলগুলির মধ্যেও ছিল গভীর যোগাযোগ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *