১৩ বলে অর্ধশতরান! উর্বিল ঝড়ে লখনউকে উড়িয়ে দিল চেন্নাই, আইপিএলে রেকর্ডের হ্যাটট্রিক

উর্বিল ঝড়ে লখনউকে উড়িয়ে দিল চেন্নাই! আইপিএল প্রতি মরসুমেই নতুন তারকা তুলে আনে। এ বার বৈভব সূর্যবংশী, আয়ুষ মাত্রেদের পর আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল আরও এক তরুণ ব্যাটার— উর্বিল পটেল।…

May 11, 2026
1 min read

উর্বিল ঝড়ে লখনউকে উড়িয়ে দিল চেন্নাই!

আইপিএল প্রতি মরসুমেই নতুন তারকা তুলে আনে। এ বার বৈভব সূর্যবংশী, আয়ুষ মাত্রেদের পর আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল আরও এক তরুণ ব্যাটার— উর্বিল পটেল। চিপকে তাঁর ব্যাটে দেখা গেল এক বিধ্বংসী ইনিংস, যা শুধু ম্যাচ জেতাল না, একসঙ্গে গড়ে দিল একাধিক রেকর্ডও। মাত্র ১৩ বলে অর্ধশতরান করে চেন্নাই সুপার কিংসকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন তিনি। লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্লে-অফের লড়াইয়েও শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেল চেন্নাই।

২০৪ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালই করেছিল চেন্নাই। সঞ্জু স্যামসন দ্রুত রান তুললেও তাঁর উইকেট পড়তেই লখনউ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল। কিন্তু তারপরই শুরু হয় উর্বিল ঝড়। আবেশ খান ও দিগ্বেশ রাঠীর বিরুদ্ধে পরপর ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। ইনিংসের প্রথম আট বলেই ছ’টি ছক্কা মারেন উর্বিল, যা আইপিএলের ইতিহাসে বিরল নজির।

মাত্র ১৩ বলে অর্ধশতরান করে তিনি ছুঁয়ে ফেলেন যশস্বী জয়সওয়ালের দ্রুততম আইপিএল ফিফটির রেকর্ড। শুধু তাই নয়, প্রথম ১০ বলে ৪২ রান করে ভেঙে দেন এবি ডিভিলিয়ার্সের পুরনো রেকর্ডও। শেষ পর্যন্ত ২৮ বলে ৬৫ রান করে আউট হন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল একের পর এক আক্রমণাত্মক শট, যা লখনউয়ের বোলারদের সম্পূর্ণ অসহায় করে দেয়।

অর্ধশতরান করার পর পকেট থেকে একটি ছোট চিরকুট বের করেন উর্বিল। সেখানে লেখা ছিল, “বাবা, এটা তোমার জন্য।” সেই মুহূর্তই যেন ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন ছবি। উর্বিলের বাবা মুকেশ পটেল পেশায় স্কুলশিক্ষক। ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও ছেলের স্বপ্ন পূরণে কোনও খামতি রাখেননি তিনি। সেই বাবাকেই নিজের সাফল্য উৎসর্গ করলেন তরুণ ব্যাটার।

গুজরাতের পালানপুরের ছেলে উর্বিল ছোট থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে নজর কেড়েছিলেন। ২০২৩ সালে লিস্ট এ ক্রিকেটে মাত্র ৪১ বলে শতরান করেছিলেন। পরে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতেও ২৮ বলে শতরান করে রেকর্ড গড়েন। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে তিন বার ৪০ বলের কমে শতরান করা একমাত্র ভারতীয় ব্যাটারও তিনি। ফলে চিপকের এই ইনিংস যে কাকতালীয় নয়, তা তাঁর পরিসংখ্যানই প্রমাণ করছে।

তবে চেন্নাইয়ের জয়ে শুধু উর্বিল নন, অবদান ছিল রুতুরাজ গায়কোয়াড়েরও। তিনি ২৮ বলে ৪২ রান করেন। শেষে প্রশান্ত বীর ও শিবম দুবে ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ শেষ করেন। চার বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে চেন্নাই।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ২০৩ রান তুলেছিল লখনউ। জশ ইংলিস ৩৩ বলে ৮৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। পাওয়ার প্লেতেই লখনউ তোলে ৯১ রান, যা তাদের ইতিহাসে সর্বাধিক। শেষ দিকে শাহবাজ় আহমেদের ২৫ বলে অপরাজিত ৪৩ রান দলকে ২০০ পার করায়। কিন্তু সেই রানও যথেষ্ট হল না।

চিপকের রাতটা শেষ পর্যন্ত শুধুই উর্বিল পটেলের। এক ইনিংসেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন, ভারতীয় ক্রিকেট আরও এক নতুন বিস্ফোরক ব্যাটারের খোঁজ পেয়ে গিয়েছে।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics
CSK

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *