১১৫ বছরের পুরনো ভুলের পথে ট্রাম্প! ‘শুল্ক পাগলামি’ আমেরিকাকে ফের মহামন্দার মুখে ঠেলে দিচ্ছে?

১১৫ বছরের পুরনো ভুলের পথে ট্রাম্প! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের তাঁর বিতর্কিত শুল্ক নীতি দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝড় তুলেছেন। আইএমএফ ও ডব্লিউটিও ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে—ট্রাম্পের ‘শুল্ক যুদ্ধ’ আমেরিকাকে…

August 10, 2025
1 min read

১১৫ বছরের পুরনো ভুলের পথে ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের তাঁর বিতর্কিত শুল্ক নীতি দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝড় তুলেছেন। আইএমএফ ও ডব্লিউটিও ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে—ট্রাম্পের ‘শুল্ক যুদ্ধ’ আমেরিকাকে ফের সেই ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক মহামন্দার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা ১৯৩০-এর দশকে দেখা গিয়েছিল।

২০২৫ সালের ৮ আগস্ট আইএমএফ ও ডব্লিউটিও-র প্রকাশিত একটি যৌথ রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে আমদানি পণ্যে গড় শুল্কহার দাঁড়িয়েছে ২০.১ শতাংশে—যা ১৯১০ সালের পর সর্বোচ্চ। অথচ বছর শুরুর সময় এই হার ছিল মাত্র ২.৪ শতাংশ। এই উল্লম্ফনের মূল কারণ হল ট্রাম্পের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে শুল্ক চাপানো।

বিশেষ করে ভারত, চিন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর পণ্যের উপর শুল্ক বেড়েছে মারাত্মকভাবে। ভারতীয় পণ্যের উপর এই হার পৌঁছেছে প্রায় ৫০ শতাংশে। যদিও ওষুধ, স্মার্টফোন ও বিরল খনিজের উপর শুল্ক বসানো হয়নি, তবুও অন্যান্য পণ্যে এই চড়া কর আরোপ আমেরিকার নিজস্ব বাজারেই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ট্রাম্পের যুক্তি হল—দেশের অভ্যন্তরেই উৎপাদন বাড়াতে হবে, আমদানির উপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এত বড় পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়। উপরন্তু, এই শুল্ক নীতি স্মুট-হাওলে আইন-এর সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে—যা ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দাকে আরও তীব্র করেছিল। তখনও যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়ে দেশের বাজারে মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছিল।

বিশ্বব্যাপী এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বহু দেশ আমেরিকান পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক বসাতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে। এতে বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এদিকে, এই শুল্ক যুদ্ধ শুধু অর্থনীতিকেই নয়, আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্ককেও টলিয়ে দিচ্ছে। ভারত, চিন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের মধ্যে নতুন মিত্রতা গড়ে উঠছে। ট্রাম্পের পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলিও—যেমন জাপান, কানাডা বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন—অস্বস্তি প্রকাশ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ‘লাভ’ মূলত আসছে আমেরিকান নাগরিকদের পকেট থেকেই। বেশি দাম দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। বাজারে মুদ্রাস্ফীতির হারও ঊর্ধ্বমুখী।

এই প্রসঙ্গে সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন সতর্ক করে বলেছেন, “ট্রাম্পের নীতি শুধু আমেরিকাকে নয়, গোটা বিশ্ব অর্থনীতিকেই বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”

ট্রাম্প যদিও এই সমালোচনাকে পাত্তা দিচ্ছেন না। বরং দাবি করছেন, শুল্কবৃদ্ধির ফলে মার্কিন শেয়ারবাজার চাঙ্গা, সরকারি কোষাগারে রাজস্ব প্রবাহ বেড়েছে। তবে বাস্তব বলছে—এই আর্থিক লাভ আসলে দীর্ঘমেয়াদে ধ্বংস ডেকে আনতে পারে।

ঘন ঘন প্রস্রাব নয়, আরও অনেক উপসর্গ জানান দিতে পারে ডায়াবিটিস! কী ভাবে বুঝবেন?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *