‘১০০ দিনের কাজ’ নিয়ে ফের বিতর্ক
‘১০০ দিনের কাজ’ অর্থাৎ মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা প্রকল্প (MGNREGA) নিয়ে আবারও তুঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যসভায় যে লিখিত বিবৃতি দিয়েছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের নাম একবারও উল্লেখ করা হয়নি। আর এই বিষয়টি নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে একটি তথ্যপত্র পেশ করা হয়। সেখানে ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে কোন কোন রাজ্যে এই প্রকল্পে কত কর্মদিবস সৃষ্টি হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। ৩০টিরও বেশি রাজ্যের নাম সেই তালিকায় ছিল—তবে চমকপ্রদভাবে, গোটা তথ্যপত্রে কোথাও উল্লেখ ছিল না পশ্চিমবঙ্গের নাম!
বিরোধীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি নজরে আসতেই রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবেই পশ্চিমবঙ্গের নাম বাদ দিয়েছে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে থেকেই এই ইস্যুতে সরব ছিলেন, এখন সংসদে কেন্দ্রের নীরবতা সেই অভিযোগকেই আরও জোরালো করল।
তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার বলেন, “কেন্দ্রের তথ্যপত্রে বাংলা নেই! এটা কোনো ভুল নয়, এটা ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যের অবদান অস্বীকার করা। ১০০ দিনের কাজ নিয়ে এতদিন ধরে রাজ্যের বকেয়া টাকা আটকে রাখা হয়েছে, এবার তথ্যেও বাংলা নেই!”
কেন্দ্রের যুক্তি কী?
কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক এখনো এই বিষয়ে আলাদা করে কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রের বক্তব্য—গত কয়েক বছরে প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে রাজ্যে ‘অসঙ্গতি’ পাওয়া গিয়েছে, তাই বাংলার প্রকল্প আপাতত স্থগিত রয়েছে। সেই কারণেই ‘বর্তমান তালিকায়’ বাংলার নাম রাখা হয়নি।
কিন্তু বিরোধীদের দাবি, যেভাবেই হোক, যে রাজ্যে কোটি কোটি পরিবার এই প্রকল্পের উপর নির্ভর করে, সেই রাজ্যের নাম একেবারে বাদ দেওয়া ‘গণতান্ত্রিক অবমাননা’ ছাড়া কিছু নয়।
রাজ্য সরকারের পাল্টা অভিযোগ
রাজ্যের দাবি, কেন্দ্র একাধিকবার যথাযথ হিসেব-সহ সব রিপোর্ট পাঠানোর পরেও বকেয়া প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা মঞ্জুর করেনি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত দফতরের মন্ত্রী বারবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। এবার রাজ্যসভায় বাংলার নাম না থাকায় কেন্দ্রের ‘উদাসীনতা’ আরও স্পষ্ট হয়ে গেল বলেই মনে করছে রাজ্য প্রশাসন।
রাজনৈতিক রণক্ষেত্রের ইঙ্গিত
২০২৬-র বিধানসভা নির্বাচন ও ২০২৪-র লোকসভা ভোটের আবহে এই ইস্যু রাজ্য রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে। তৃণমূল ইতিমধ্যেই এই বিতর্ককে হাতিয়ার করে ‘বাঙালির অপমান’ ও ‘অর্থনৈতিক অবরোধ’-এর বার্তা দিতে শুরু করেছে। অন্যদিকে বিজেপি এখনো এই বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দিলেও, আগামী দিনে দল কী অবস্থান নেয়, তা নিয়েও জল্পনা চলছে।
শেষ কথা, ‘১০০ দিনের কাজ’ প্রকল্পটি বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণভোমরা। আর সেই প্রকল্প নিয়েই যখন নাম পর্যন্ত থাকছে না কেন্দ্রীয় তালিকায়, তখন প্রশ্ন তো উঠবেই—এটা কি নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, না এর আড়ালে রয়েছে রাজনৈতিক কৌশল?
মায়ের খরচ চালাতে অস্বীকৃতি! আদালতের রায়, খোরপোশ ঠিক করবেন কাল্যাণীর এসডিও