হাওড়া ব্রিজে টাকার বিনিময়ে গাড়ি ছাড়!
হাওড়া ব্রিজের ব্যস্ত রাস্তায় সাধারণ এক গাড়ি দাঁড় করিয়ে পুলিশের হাতে ঘুষ দেওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। কলকাতা পুলিশের এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার তদন্তে নেমে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় লালবাজার। অভিযুক্ত দুই পুলিশ আধিকারিককে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের একজন এএসআই পদমর্যাদার, অপরজন কনস্টেবল। চলতি তদন্ত না শেষ হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কর্মমুক্ত থাকবেন।
ভিডিওটি বেশ কিছুদিন ধরে নেটমাধ্যমে ঘুরছিল। তাতে দেখা যাচ্ছে, হাওড়া ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে আছে একটি গাড়ি, পাশে দাঁড়িয়ে সাদা উর্দি পরা পুলিশকর্মী। তাঁর হাতে লাঠি, মুখে কঠিন ভঙ্গি। গাড়ির ভিতর থেকে কারওর মন্তব্য শোনা যায়, “খুচরো নেই বলেই তো দিচ্ছি নাকি?” এই সময় দৃশ্যে আরেক পুলিশ আসেন এবং গাড়িচালকের সঙ্গে কথোপকথন শুরু করেন। গাড়ির চালক হালকা স্বরে বলেন, “১০ টাকা কম আছে, পালাচ্ছি না স্যার।” ওই সময় হাতে থাকা কিছু টাকা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং তার পর গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি যতটা সরল মনে হতে পারে, তা আসলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার এক গভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে— রাস্তায় কর্তব্যরত পুলিশ কর্তৃপক্ষ হয়রানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছেন। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় ক্ষোভের ঝড়। নেটিজেনরা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। অনেকেই বলেন, এমন আচরণ যেন পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিতেই কালিমা লেপে দিচ্ছে।
লালবাজার সূত্রে খবর, ভিডিওর ভিত্তিতে তৎপর হয় কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ। তৎক্ষণাৎ চিহ্নিত করা হয় দুই পুলিশকর্মীকে— একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং অন্যজন কনস্টেবল। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে, এবং তদন্ত রিপোর্ট লালবাজারে জমা পড়লেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভিডিওতে চালকের মুখ না দেখা গেলেও, তাঁর হাতে ধরা টাকার দৃশ্য এবং কথোপকথন ঘটনাটিকে বাস্তব প্রমাণে যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে— শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাতেই যদি এভাবে ঘুষের বিনিময়ে গাড়ি ছাড়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলকাতার মতো শহরে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হলে, তার প্রভাব পড়ে সমগ্র ব্যবস্থার উপর। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য বিচারই এখন মূল দাবি।
৪০ বছর পরে ফের এক ভারতীয় মহাকাশে! শুভাংশুকে নিয়ে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিতে তুঙ্গে ‘ড্রাগন