হরমুজ় প্রণালীতে মাইন ঘিরে উত্তেজনা!
পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার মাঝেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে হরমুজ় প্রণালী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরই অভিযোগ উঠেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নাকি সমুদ্র-মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই ইরানকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump।
ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, যদি সত্যিই ইরান হরমুজ় প্রণালীতে মাইন পুঁতে থাকে, তবে তাদের “ভয়াবহ পরিণতি”র মুখে পড়তে হতে পারে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত তাঁর প্রশাসনের কাছে নিশ্চিত কোনও প্রমাণ নেই যে জাহাজ চলাচলের পথে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। তবে এমন কিছু ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
নিজের সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ করা এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “যদি ইরান সত্যিই হরমুজ় প্রণালীতে মাইন পুঁতে থাকে, তাহলে অবিলম্বে তা সরিয়ে নিতে হবে। না হলে তাদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, যা তারা আগে কখনও দেখেনি।” তাঁর মতে, মাইন সরিয়ে নেওয়াই তেহরানের জন্য এখন সবচেয়ে সঠিক পদক্ষেপ।
হরমুজ় প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হয়, তার বড় অংশই এই পথ দিয়ে যায়। একদিকে ওমান, অন্যদিকে ইরান—এই দুই দেশের মাঝখান দিয়ে বিস্তৃত এই সংকীর্ণ জলপথ আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হরমুজ় প্রণালীতে কয়েক ডজন সমুদ্র-মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দুই আধিকারিককে উদ্ধৃত করে সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় সন্দেহজনক সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এই মাইন পোঁতার ঘটনায় সরাসরি ইরানের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।
এই খবর সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। এরপরই ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানকে সতর্ক করেন। যদিও এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এর মধ্যেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেই ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, হরমুজ় প্রণালীতে থাকা মাইন সরানোর কাজ করছে মার্কিন নৌবাহিনী। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরই এই ভিডিও সামনে আনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান আগেই দাবি করেছে, তারা হরমুজ় প্রণালীর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যদি তাদের উপর সামরিক চাপ বা হামলা অব্যাহত থাকে, তবে এই অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ হরমুজ় প্রণালীতে কোনও ধরনের সংঘাত বা অবরোধ তৈরি হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম এবং সরবরাহ—দুটোর উপরই বড় প্রভাব পড়তে পারে।
ফলে পরিস্থিতি এখন কূটনৈতিক ও সামরিক—দু’দিক থেকেই অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বড় শক্তিগুলির নজর এখন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের উপরই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?