হরমুজ়ে উত্তেজনা চরমে!
পশ্চিম এশিয়ায় আবারও বাড়ছে উত্তেজনা। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ Strait of Hormuz-কে ঘিরে মুখোমুখি অবস্থানে United States ও Iran। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অবরোধের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঘোষণা করে দিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা United States Central Command জানিয়েছে, ভারতীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে হরমুজ় প্রণালীতে ‘অবরোধ’ কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ, ইরানের বন্দরে যাওয়া বা সেখান থেকে বেরোনোর চেষ্টা করা জাহাজগুলিকে আটকাতে পারে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে ইরানের বাইরের বন্দরের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
এই ঘোষণা নতুন নয়—এর আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, হরমুজ় দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজগুলিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজন হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় সেই হুঁশিয়ারিই এখন বাস্তবের পথে।
অন্যদিকে, চুপ করে বসে নেই ইরানও। দেশের পার্লামেন্টের স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf জানিয়েছেন, তারা আলোচনায় আগ্রহী হলেও আমেরিকার ‘চাপের রাজনীতি’ মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী স্পষ্ট করে দিয়েছে—কোনও বিদেশি যুদ্ধজাহাজ হরমুজ়ের দিকে এগোলে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।
এই টানাপোড়েনের মূল কারণ সাম্প্রতিক ব্যর্থ শান্তি আলোচনা। মার্কিন পক্ষের দাবি, ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দিতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে তেহরানের অভিযোগ, আমেরিকা এমন কিছু শর্ত চাপাচ্ছিল যা দেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
বিশ্ব অর্থনীতির দিক থেকেও এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Strait of Hormuz দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহণ হয়। ফলে এখানে কোনও সংঘাত বা অবরোধ মানেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিচ্ছে। দুই দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড়। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন একটাই—এই ‘অবরোধ’ কি শুধু চাপ তৈরির কৌশল, নাকি সত্যিই বড় সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে বিশ্ব?
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?