সুচিত্রা সেনকে মনে করলেন মুনমুন!
বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি Suchitra Sen-এর ৯৬তম জন্মদিনে যেন ফিরে এল এক অন্য সময়ের দরজা। রূপোলি পর্দার উজ্জ্বল নক্ষত্রের বাইরেও তিনি ছিলেন এক স্নেহময়ী মা—আর সেই মায়ের স্মৃতিই আবেগভরে ভাগ করে নিলেন তাঁর কন্যা Moon Moon Sen।
বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের সেই পুরনো বাড়ি—অভিজাত অথচ মায়াময়। ঘরে সাদা-কালো ছবিতে সুচিত্রা, পাশে সাদা লিলির গুচ্ছ। যেন সময় থমকে আছে। সেই পরিবেশেই বসে মুনমুন হেসে বললেন, “দেখো, মায়ের চুড়ি পরেছি।” তাঁর হাতের সোনার চুড়িতে যেন বেজে উঠছিল অতীতের স্মৃতি।
কথা ঘুরে গেল শাড়ি আর সাজে। মুনমুন জানালেন, ‘দেবী চৌধুরাণী’ ছবির সময় মা নিজে শাড়ি বেছে নিতেন। চরিত্রের রূপান্তরের সঙ্গে সাজের সূক্ষ্ম পরিবর্তন নিয়েও ভাবতেন গভীরভাবে। শুধু তাই নয়, ছবির ব্লাউজ়ের নকশা পর্যন্ত করেছিলেন মুনমুন নিজেই। মায়ের সৃজনশীলতায় মেয়ের এই নিঃশব্দ অংশগ্রহণ যেন এক অনন্য বন্ধনের পরিচয় দেয়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হয়েও নিজের প্রতিভাকে বরাবর আড়ালে রেখেছেন মুনমুন। তবে ছোটবেলার স্মৃতি বলতে গিয়ে তিনি যেন খুলে দিলেন হৃদয়ের দরজা। “আমি সারা ঘরে চালগুঁড়ো দিয়ে আলপনা আঁকতাম। মা শুটিং থেকে ফিরে সেই আলপনা দেখে খুব খুশি হতেন,”—বলতে বলতে চোখে যেন ভেসে উঠছিল সেই দিনগুলো।
একদিকে সুপারস্টার সুচিত্রা সেন, অন্যদিকে ঘরের ‘রমা’—এই দুই সত্তার মধ্যে কী ভাবে ভারসাম্য রাখতেন তিনি? মুনমুন হেসে বলেন, “সে বড় জটিল প্রশ্ন, আর এক দিন বলব।” তবে কথার ফাঁকেই জানালেন, ‘ফরিয়াদ’ ছবিতে মায়ের গাউনটিও তিনিই ডিজ়াইন করেছিলেন।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি এল আরও পরে। ছোট্ট মুনমুন, মায়ের কোলে বসে—আর মা কনের সাজে। “মা চেয়েছিলেন, আমি যেন তাঁর কপালে চন্দন পরিয়ে দিই,”—বললেন তিনি। সেই মুহূর্তে যেন মা-মেয়ে নয়, দুই বন্ধুর সম্পর্ক ধরা দেয়।
এই স্মৃতিগুলো শুধু ব্যক্তিগত নয়—এগুলো এক সময়ের, এক সম্পর্কের, এক ভালোবাসার দলিল। যেখানে সুপারস্টার সুচিত্রা সেনকে ছাপিয়ে ওঠেন এক সাধারণ মা, আর মুনমুন হয়ে ওঠেন শুধু কন্যা নয়, তাঁর সখী।
শেষ পর্যন্ত মনে হয়, আলো-আঁধারির সিনেমার বাইরেও কিছু গল্প থাকে—যা আরও গভীর, আরও মানবিক। সুচিত্রা সেন ও মুনমুন সেনের সম্পর্ক ঠিক তেমনই—স্মৃতির আলপনায় আঁকা এক নিঃশব্দ ভালোবাসার ছবি।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না