অসমাপ্ত স্বপ্নের আফসোসে অনীক দত্তকে স্মরণ সোমনাথের, সলিল চৌধুরীর বায়োপিক আর হল না

অসমাপ্ত স্বপ্নের আফসোসে অনীক দত্তকে স্মরণ সোমনাথের! বাংলা চলচ্চিত্র জগতে আচমকা নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিচালক Anik Dutta-র অকালপ্রয়াণ এখনও মেনে নিতে পারছেন না তাঁর ঘনিষ্ঠরা। ২৭ মে দুপুরে নিজের…

May 28, 2026
1 min read

অসমাপ্ত স্বপ্নের আফসোসে অনীক দত্তকে স্মরণ সোমনাথের!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে আচমকা নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিচালক Anik Dutta-র অকালপ্রয়াণ এখনও মেনে নিতে পারছেন না তাঁর ঘনিষ্ঠরা। ২৭ মে দুপুরে নিজের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন পরিচালক। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই খবরে স্তব্ধ হয়ে যায় টলিউড।

পরিচালকের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা রূপটানশিল্পী Somnath Kundu স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। তিনি জানান, খবরটা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি। তখন তিনি নিজেই ‘প্রস্থেটিক মেকআপ’-এর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সহকর্মীর ফোনে খবর পেয়ে যেন মুহূর্তে সব থমকে যায়।

সোমনাথের কথায়, অনীক দত্তের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধু সিনেমার সেটেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিজ্ঞাপনের কাজ করতে গিয়েও বহু সময় একসঙ্গে কাটিয়েছেন তাঁরা। পরিচালক হিসেবে অনীক ছিলেন অত্যন্ত খুঁতখুঁতে, আবার একই সঙ্গে শিল্পীদের স্বাধীনতাও দিতেন। সেই কারণেই তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল আলাদা।

ছবি ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-এর লুকসেট থেকে শুরু করে পরে Aparajito— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন সোমনাথ। বিশেষ করে ‘অপরাজিত’ ছবির সময়কার স্মৃতি আজও তাঁর কাছে ভীষণ আবেগের। ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের চরিত্রের লুক তৈরির দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। সোমনাথ জানান, অনীক দত্ত তাঁকে সরাসরি বলেছিলেন, “তুমি ছাড়া এই কাজ আমি করব না।” সেই আস্থা আজও তাঁকে নাড়িয়ে দেয়।

এই ছবিতেই অভিনেতা Jeetu Kamal-কে সত্যজিৎ রায়ের আদলে তুলে ধরার কাজ ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল। জাতীয় পুরস্কারও আসে সেই কাজের সুবাদে। তবে কাজের সময় মতবিরোধও হত। কখনও পরিচালকের তাড়াহুড়োয় আপত্তি তুলতেন সোমনাথ। কিন্তু সেই তর্কের মধ্যেও ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর বিশ্বাস।

সবচেয়ে বেশি আফসোসের জায়গাটা অন্যত্র। সোমনাথ জানিয়েছেন, অনীক দত্তের বহু দিনের ইচ্ছা ছিল কিংবদন্তি সুরকার Salil Chowdhury-কে নিয়ে একটি জীবনীচিত্র তৈরি করার। সেই পরিকল্পনা অনেকটাই এগিয়েও গিয়েছিল। এমনকি এক অভিনেতাকে নিয়ে প্রাথমিক ‘লুক টেস্ট’ও করা হয়েছিল।

পরিচালকের প্রথম পছন্দ ছিলেন অভিনেতা Anirban Bhattacharya। তাঁকে সলিল চৌধুরীর চরিত্রে কেমন লাগবে, তার গ্রাফিক্সও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে শেষ পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ সম্পূর্ণ হয়নি। পরে অন্য অভিনেতার কথা ভাবার আলোচনা হলেও ছবিটি আর বাস্তবায়িত হয়নি।

সেই অসমাপ্ত স্বপ্নের কথাই এখন সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে সোমনাথকে। তাঁর কথায়, “অনীকদার মতো মানুষের চলে যাওয়া মেনে নেওয়া খুব কঠিন। শেষবার দেখা হবে, কিন্তু এ ভাবে হবে কখনও ভাবিনি।”

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *