স্বামীকে খুন করে দেহ নীল ড্রামে লুকোনোর মামলা, মেরঠে মুস্কান ও প্রেমিক সাহিলের মৃত্যুদণ্ড

স্বামীকে খুন করে দেহ নীল ড্রামে লুকোনোর মামলা! মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে খুনের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মুস্কান রস্তোগী ও মুস্কানের প্রেমিক সাহিল শুক্লকে মৃত্যুদণ্ড দিল মেরঠের আদালত। ২০২৫ সালের…

October 14, 2026
1 min read

স্বামীকে খুন করে দেহ নীল ড্রামে লুকোনোর মামলা!

মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে খুনের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মুস্কান রস্তোগী ও মুস্কানের প্রেমিক সাহিল শুক্লকে মৃত্যুদণ্ড দিল মেরঠের আদালত। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডে দু’সপ্তাহ আগেই দু’জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। বুধবার তাঁদের সাজা ঘোষণা করা হয়।

মামলার শুনানিতে মোট ১২৬টি তারিখে বিচারপ্রক্রিয়া চলেছে। ২২ জন সাক্ষীর বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে। জেলা বিচারক অরবিন্দ কুমার মিশ্রের পর্যবেক্ষণ, সৌরভকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন মুস্কান ও সাহিল। খুনের পর দেহ লোপাটের চেষ্টাও করেছিলেন তাঁরা। বিচারকের মতে, এই ধরনের অপরাধ সমাজে আতঙ্ক তৈরি করে। সেই বিষয়টি বিবেচনা করেই দু’জনকে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে।

নীল ড্রামে সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল দেহ

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ মেরঠের ইন্দ্রনগরে নিজের বাড়িতে খুন হন সৌরভ। তদন্তকারীদের দাবি, প্রথমে তাঁর খাবারে ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করা হয়। পরে সাহিল বাড়িতে এলে দু’জনে মিলে তাঁকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে খুন করেন।

এর পর সৌরভের দেহ টুকরো করে একটি বড় নীল প্লাস্টিকের ড্রামে রাখা হয়। দেহ লুকোতে ড্রামের মধ্যে বালি, জল ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। ড্রামের মুখও সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশের কাছে এই ড্রামটি তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে।

সন্দেহ থেকে পুলিশের তদন্ত

খুনের পর মুস্কান ও সাহিল হিমাচল প্রদেশে বেড়াতে চলে যান বলে পুলিশের দাবি। এদিকে সৌরভের মোবাইল ফোন থেকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়েছিল, তিনি কাজের সূত্রে বাইরে রয়েছেন।

২০২৫ সালের ১৭ মার্চ সৌরভের আত্মীয়দের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পরে নীল ড্রাম থেকে দেহ উদ্ধার করা হয়। এর দু’দিনের মধ্যে মুস্কান ও সাহিলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সাক্ষ্য-প্রমাণে উঠে আসে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

তদন্তে স্থানীয় দোকানিদের সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাঁদের বয়ান অনুযায়ী, নীল ড্রাম, ছুরি, বস্তা, বালি ও সিমেন্টের মতো সামগ্রী কেনা হয়েছিল, যা পরে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে তদন্তকারীরা দাবি করেন।

এ ছাড়াও মোবাইলের কল রেকর্ড, টাওয়ারের তথ্য এবং হিমাচল প্রদেশের হোটেলে তাঁদের থাকার তথ্য খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও ছুরি দিয়ে আঘাতের উল্লেখ ছিল।

ঘটনার পর তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শেষে দেড় বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে সাজা ঘোষণা করল আদালত। তবে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *