স্বর্ণমন্দিরের সামনে সুখবীর বাদলকে লক্ষ্য করে গুলি: হামলাকারী আটক

স্বর্ণমন্দিরের সামনে সুখবীর বাদলকে লক্ষ্য করে গুলি বুধবার সকালে অমৃতসর স্বর্ণমন্দিরের সামনে ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। শিরোমণি অকালি দলের প্রধান সুখবীর সিংহ বাদলকে লক্ষ্য করে এক যুবক গুলি চালায়। তবে…

December 4, 2024
1 min read

স্বর্ণমন্দিরের সামনে সুখবীর বাদলকে লক্ষ্য করে গুলি

বুধবার সকালে অমৃতসর স্বর্ণমন্দিরের সামনে ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। শিরোমণি অকালি দলের প্রধান সুখবীর সিংহ বাদলকে লক্ষ্য করে এক যুবক গুলি চালায়। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। উপস্থিত জনতা হামলাকারীকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ঘটনায় সুখবীর অক্ষত থাকলেও ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

স্বর্ণমন্দিরের প্রবেশপথে হামলা

বুধবার সকালে স্বর্ণমন্দিরে প্রবেশের সময়েই সুখবীর সিংহ বাদলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এক যুবক। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ধীরগতিতে সুখবীরের দিকে এগিয়ে এসে নিজের জামার ভিতরে লুকিয়ে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে ওই যুবক গুলি চালায়। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং সুখবীর প্রাণে বেঁচে যান। উপস্থিত জনতা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে হামলাকারীকে ধরে ফেলে। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে এবং তার কাছ থেকে একটি পিস্তল বাজেয়াপ্ত করে।

ধৃত যুবক এবং তদন্ত

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম নারায়ণ সিংহ চৌরা। তিনি গুরুদাসপুর জেলার বাসিন্দা এবং অমৃতসর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরের এক গ্রামে থাকেন। পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে এই হামলা, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা পুরনো কোনো বিতর্ক থেকেই হামলা হয়ে থাকতে পারে।

সুখবীরের প্রেক্ষাপট

২০১৫ সালে পাঞ্জাবের উপমুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন শিরোমণি অকালি দলের নেতা সুখবীর সিংহ বাদলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ করা হয়, তিনি ডেরা সাচ্চা সৌদার প্রধান গুরমিত রামরহিমকে বেআইনি সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন। শিখ ধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান অকাল তখ্‌ত বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাকে ‘তঙ্খাইয়া’ (ধর্ম অবমাননাকারী) ঘোষণা করে।

এই ঘোষণার পর অকাল তখ্‌ত সুখবীরকে গুরুদ্বারে সেবার কাজ করার নির্দেশ দেয়। মঙ্গলবার থেকে তিনি শাস্তি পালন শুরু করেন। হুইলচেয়ারে বসা অবস্থাতেই ভাঙা পায়ে তিনি স্বর্ণমন্দিরে এসে রান্নাঘর এবং শৌচালয় পরিষ্কার করার কাজ করেন। বুধবার সকালে এই সেবা সম্পন্ন করতে ফের তিনি স্বর্ণমন্দিরে পৌঁছান। ঠিক তখনই হামলার ঘটনাটি ঘটে।

অতীতের বিতর্ক এবং বর্তমান পরিস্থিতি

সুখবীরের বিরুদ্ধে ২০১২-১৭ সালের পাঞ্জাব সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল। তিনি অকালি দল-বিজেপি জোট সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন গুরমিত রামরহিমকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি অকাল তখ্‌তের বিচারসভা সেই অভিযোগ পুনরায় খতিয়ে দেখে তাকে শাস্তি প্রদান করে। শাস্তি ঘোষণার এক দিনের মাথায় তার উপর এই হামলার ঘটনা ঘটায় অনেকেই এটিকে সেই পুরনো বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন।

জনসাধারণের তৎপরতা

স্বর্ণমন্দিরের মতো একটি ধর্মীয় স্থানের সামনে এমন একটি হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষ প্রথমেই প্রতিক্রিয়া দেখান। আততায়ীকে দ্রুত আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া জনতার তৎপরতা প্রশংসার দাবি রাখে। পাঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

সুখবীরের ওপর এই হামলা নিয়ে পাঞ্জাব সরকারের তরফে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে অমৃতসর পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। স্বর্ণমন্দিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নিরাপত্তায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।

ভবিষ্যতের পদক্ষেপ

এই ঘটনার পর অমৃতসর এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্বর্ণমন্দিরের মতো ধর্মীয় স্থানের বাইরে এমন হামলা শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সুখবীর সিংহ বাদল নিজে এই ঘটনায় কী প্রতিক্রিয়া জানান, সেদিকেও নজর থাকবে।

সুখবীর সিংহ বাদলের ওপর এই হামলার ঘটনা শুধু পাঞ্জাব নয়, গোটা দেশের রাজনীতিতেই আলোড়ন ফেলেছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে। এটি সাম্প্রতিককালে রাজনীতিবিদদের উপর হওয়া আক্রমণের একটি নতুন সংযোজন, যা সুরক্ষার দিকটি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *