স্নায়ুতে যেন ধারালো চিমটি, গলার কাছে তীব্র যন্ত্রণা! কোন সমস্যায় ভুগছিলেন সোনু নিগম?

কোন সমস্যায় ভুগছিলেন সোনু নিগম? দীর্ঘ দিন ধরেই অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন সোনু নিগম। এমনকি অস্ত্রোপচারের সময়ও তাঁকে রফির গান গাইতে দেখা গিয়েছে। সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই গায়কের…

August 10, 2026
0 min read

কোন সমস্যায় ভুগছিলেন সোনু নিগম?

দীর্ঘ দিন ধরেই অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন সোনু নিগম। এমনকি অস্ত্রোপচারের সময়ও তাঁকে রফির গান গাইতে দেখা গিয়েছে। সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই গায়কের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন অনুরাগীরা। নিজের অসুস্থতা নিয়ে বিস্তারিত না জানালেও সোনু জানিয়েছেন, গলার চারপাশে তীব্র ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার মতো অনুভূতি হত তাঁর। চিকিৎসকেরা তাঁর সমস্যাকে ‘পিঞ্চড নার্ভ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

পিঞ্চড নার্ভ আসলে কী?

‘পিঞ্চড নার্ভ’ কোনও একটি নির্দিষ্ট রোগের নাম নয়। স্নায়ুর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে যে ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, সেগুলিকে সাধারণ ভাবে এই নামে ডাকা হয়। স্নায়ুর চারপাশের হাড়, পেশি বা অন্যান্য টিস্যুতে চাপ ও প্রদাহ তৈরি হলে আক্রান্ত জায়গায় তীব্র ব্যথা, জ্বালাপোড়া, ঝিনঝিনে ভাব কিংবা অসাড়তা দেখা দিতে পারে।

সোনুর বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর ক্ষেত্রে মনে হত যেন গলার কাছে স্নায়ুতে কেউ ধারালো কিছু দিয়ে খোঁচা দিচ্ছে বা চিমটি কাটছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই পরিস্থিতিকে ‘নার্ভ কম্প্রেশন’ বা ‘কম্প্রেসিভ নিউরোপ্যাথি’ বলা হয়।

মেরুদণ্ডের কাছাকাছি কোনও স্নায়ুর উপর চাপ বা প্রদাহ তৈরি হলে তাকে ‘রেডিকিউলোপ্যাথি’ বলা হয়। আর ঘাড়ের অংশের স্নায়ু আক্রান্ত হলে তাকে ‘সার্ভাইক্যাল রেডিকিউলোপ্যাথি’ বলা হয়। সোনু জানিয়েছেন, তাঁর গলার চারপাশে এই ধরনের প্রদাহ ও যন্ত্রণা হচ্ছিল।

সমস্যা শনাক্ত করতে তাঁর এমআরআই এবং সিটি স্ক্যান করা হয়। চিকিৎসার জন্য তাঁকে ওষুধ খেতে হয়েছে। পাশাপাশি যন্ত্রণাদায়ক ফিজিয়োথেরাপির মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন গায়ক।

কেন হয় পিঞ্চড নার্ভ?

স্নায়ুর উপর চাপ তৈরি হওয়ার একাধিক কারণ থাকতে পারে। ঘাড়, পিঠ এবং কব্জিতে এই সমস্যা তুলনামূলক ভাবে বেশি দেখা যায়। মেরুদণ্ডের কশেরুকার মধ্যবর্তী নরম ডিস্কের অংশ বাইরে বেরিয়ে এসে স্নায়ুর উপর চাপ তৈরি করতে পারে। হাড়ের ক্ষয় বা অন্যান্য শারীরিক পরিবর্তনের কারণেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শুধু বড় কোনও শারীরিক সমস্যার কারণেই নয়, দৈনন্দিন অভ্যাস থেকেও স্নায়ুর উপর চাপ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা, ঝুঁকে মোবাইল দেখা কিংবা একই ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় বসে থাকা তার অন্যতম কারণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা গান গাওয়ার ক্ষেত্রেও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কী ভাবে চিকিৎসা হয়?

পিঞ্চড নার্ভের সমস্যা সব সময় দীর্ঘস্থায়ী হয় না। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ, বিশ্রাম এবং ফিজিয়োথেরাপির মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। তবে প্রদাহ বা স্নায়ুর উপর চাপ অত্যন্ত বেশি হলে কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

তাই ঘাড়, পিঠ বা শরীরের অন্য কোনও অংশে দীর্ঘ দিন ধরে তীব্র ব্যথা, জ্বালাপোড়া, ঝিনঝিনি বা অসাড়তার মতো উপসর্গ থাকলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *