সুপ্রিম কোর্টের রায় বহাল!
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলা ঘিরে ২৬ হাজার চাকরির ভাগ্য নিয়ে চলছিল দীর্ঘ লড়াই। অবশেষে সোমবার সেই মামলার সমস্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে স্পষ্ট হয়ে গেল, আগের মতোই বাতিল থাকবে চাকরিগুলি। এই রায়ে রাজ্য সরকার, স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) এবং চাকরি হারানো প্রার্থীদের একাংশ বড় ধাক্কা খেলেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে—এই মামলায় পুনর্বিবেচনার আর কোনও জায়গা নেই। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, নিয়োগ পরীক্ষার আসল ওএমআর শিট মিলছে না। সিবিআইয়ের তদন্ত এবং বাগ কমিটির রিপোর্ট থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছিল। তাই পুরনো রায়ই বহাল থাকবে।
গত ৫ অগস্ট পর্যন্ত এই মামলার রিভিউ পিটিশন নিয়ে শুনানি হয়েছিল বিচারপতিদের চেম্বারে। সোমবার শীর্ষ আদালত জানায়, এ বিষয়ে আর কোনও নতুন শুনানির প্রয়োজন নেই। সরাসরি সব আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট এসএসসির প্রায় ২৬ হাজার নিয়োগ বাতিল করে দিয়েছিল। আদতে সংখ্যা ছিল ২৫,৭৩৫। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানিয়েছিল, এত অনিয়ম ও দুর্নীতির মাঝে কারা যোগ্য আর কারা অযোগ্য, তা আলাদা করা সম্ভব নয়। তাই পুরো নিয়োগপ্যানেলই বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—এসএসসি নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবে। যাঁরা অবৈধভাবে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের বেতনও ফেরত দিতে হবে।
এরপর রাজ্য সরকার, এসএসসি এবং চাকরি হারানো শিক্ষকদের একাংশ রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায়। তাঁদের দাবি ছিল, এত বিপুল সংখ্যক চাকরি বাতিল হলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় ভেঙে পড়বে। একাধিক স্কুলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পাওয়া যাবে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের উপর। মধ্যশিক্ষা পর্ষদও এই আশঙ্কা জানিয়ে আবেদন করেছিল।
সেই আবেদন আংশিকভাবে মেনে নিয়ে আদালত শর্তসাপেক্ষে কিছু ছাড় দিয়েছিল। রায় হয়েছিল—নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকরা ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে যেতে পারবেন। তবে শর্ত ছিল, ৩১ মে-র মধ্যে রাজ্যকে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। সেই অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশও হয়েছিল।
তবে পুনর্বিবেচনার আর্জি ছিল, চাকরিগুলি যাতে পুরোপুরি বাতিল না হয়। কিন্তু সোমবার আদালত একেবারে সাফ জানিয়ে দিল—এই মামলা নিয়ে নতুন করে আর কিছু ভাবা হবে না। সব আবেদন খারিজ, আগের রায়ই বহাল।
ফলে স্পষ্ট, চাকরি হারানোদের জন্য ফের একবার বন্ধ হয়ে গেল সুযোগের দরজা। যদিও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর পথে এগোচ্ছে রাজ্য, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা এই চাকরির উপর নির্ভর করেছিলেন, তাঁদের হতাশা যেন আরও গাঢ় হয়ে উঠল।
এই রায়ের পর আবারও এক প্রশ্ন সামনে এসেছে—কবে শেষ হবে নিয়োগ দুর্নীতির অধ্যায়? শিক্ষা ব্যবস্থায় শূন্যস্থান কীভাবে পূরণ হবে? আপাতত উত্তর দেবে সময়ই।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি জ়েলেনস্কি, তবে আগাম শর্তে নয়