সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলা!
সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানিতে বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এনে দিল রাজ্য— সরকারের কি আদৌ ‘মৌলিক অধিকার’ থাকতে পারে? এই প্রশ্ন ঘিরেই আদালতে শুরু হল তর্ক-বিতর্ক, যা ভবিষ্যতে আইন ও প্রশাসনের সম্পর্ক নিয়ে বড় দিশা দেখাতে পারে।
বিচারপতি Prashant Kumar Mishra এবং N. V. Anjaria-র বেঞ্চে রাজ্যের আইনজীবীরা মূলত তিনটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তাঁদের যুক্তি, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অধিকার কেবলমাত্র তখনই প্রযোজ্য, যখন কোনও ব্যক্তির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়। কিন্তু একটি সরকারি সংস্থা— যেমন Enforcement Directorate— কি সেই অধিকার দাবি করতে পারে?
রাজ্যের তরফে সওয়াল করেন আইনজীবী Shyam Divan। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মৌলিক অধিকার ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য, কোনও প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জন্য নয়।” তাঁর মতে, এখানে ইডি আসলে কেন্দ্রীয় সরকারেরই একটি অংশ। ফলে এই মামলা কার্যত কেন্দ্র বনাম রাজ্যের মামলা হয়ে দাঁড়াচ্ছে— যা অন্য সাংবিধানিক ধারায় বিচার্য, ৩২ অনুচ্ছেদে নয়।
রাজ্যের আরও যুক্তি, ইডি নিজেই কেন্দ্রীয় সরকারের একটি শাখা হয়েও মামলায় কেন্দ্রকে পক্ষ করেছে— যা আইনি দিক থেকে স্ববিরোধী। যদি এ ভাবে বিভিন্ন সরকারি দফতর নিজেদের মধ্যে মামলা করতে শুরু করে, তা হলে সংবিধানের ভারসাম্য নষ্ট হবে বলেও সতর্ক করেন আইনজীবীরা।
এই প্রেক্ষিতে আদালতও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। বিচারপতি মিশ্র জানতে চান, যদি কোনও তদন্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হয়— যেমন কোনও মুখ্যমন্ত্রী তদন্ত চলাকালীন ঢুকে পড়েন— তা হলে তদন্তকারী সংস্থা কী করবে? আদালতের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী Kapil Sibal বলেন, ইডি এই মামলার মাধ্যমে আদালতের কাছ থেকে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ আদায় করতে চাইছে, যা তাদের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে না। তাঁর প্রশ্ন, “ধরে নিলাম হুমকি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাতে কোন মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হল?”
প্রসঙ্গত, এই মামলার সূত্রপাত জানুয়ারি মাসে। বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত তদন্তে কলকাতায় আইপ্যাকের দফতর ও সংস্থার কর্ণধারের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। অভিযোগ, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু নথি ও ল্যাপটপ নিয়ে বেরিয়ে আসেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় ইডি।
রাজ্যের দাবি, ইডি চাইলে এফআইআর করতে পারত বা সংবিধানের ১৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মামলা করতে পারত। কিন্তু সরাসরি ৩২ অনুচ্ছেদে যাওয়ার মাধ্যমে তারা আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এড়িয়ে গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই মামলায় শুধু একটি ঘটনার বিচারই নয়— বরং বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে: রাষ্ট্র, সংস্থা ও ব্যক্তির অধিকার ঠিক কোথায় আলাদা? সেই উত্তর খুঁজতেই আগামী সপ্তাহে ফের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে।
ধীরে ধীরে কমান চিনির অভ্যাস: স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর কয়েকটি সহজ উপায়