সুপারনিউমেরারি পদেও নিয়োগে ঘুষ!
শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির জালে এবার ধরা পড়ল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। অতিরিক্ত শূন্যপদ অর্থাৎ ‘সুপারনিউমেরারি’ পদেও নাকি চাকরি পেতে দিতে হয়েছে ঘুষ—এমনই বিস্ফোরক দাবি করল সিবিআই। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে এক মামলার শুনানিতে এই অভিযোগ তোলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। পাশাপাশি, তারা এ নিয়ে আলাদা করে তদন্ত শুরু করার জন্য আদালতের কাছ থেকে অনুমতি চেয়েছে।
সিবিআই-এর তরফে আদালতে আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, প্রাথমিক তদন্তে এমন বহু তথ্য উঠে এসেছে যেখানে দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করে সেখানে চাকরিপ্রার্থীদের থেকে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় চাকরি দেওয়া হয়েছে এমন অনেকের নাম ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। কিন্তু এই বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কতগুলি পদে বা কোথায় নিয়োগ হয়েছে, তা এখনই জানানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ, সেসব খুঁটিনাটি জানতে হলে নতুন করে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করতে হবে।
তবে সিবিআই অভিযোগ করে যে, রাজ্য সরকার এখন পর্যন্ত এই নতুন এফআইআরের অনুমতি দেয়নি। ফলে তদন্ত শুরু করতে পারছে না সংস্থাটি। আদালতের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি পেলেই তারা তদন্তে নামতে প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, উচ্চ প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময়েই উঠে আসে এই সুপারনিউমেরারি নিয়োগের প্রসঙ্গ। এ দিন বিচারপতি বসু ইঙ্গিত দেন, এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং বিস্তারিত শুনানির জন্য আগামী ৪ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।
সিবিআই জানায়, নিয়োগ দুর্নীতির একাধিক মামলার সঙ্গে এই ঘটনাটিও জড়িত। অতীতেও আদালতের নির্দেশেই তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির তদন্ত করেছে। তাই এই ক্ষেত্রেও একই ধরনের নির্দেশনা প্রয়োজন বলে মনে করছে তারা। আদালতের অনুমতি ছাড়া নতুন তদন্ত শুরু সম্ভব নয় বলেও তাদের বক্তব্য।
এই নতুন তথ্য সামনে আসায় রাজ্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল। ইতিমধ্যেই এসএসসি, টেট-সহ একাধিক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত রাজ্য সরকার। তার মধ্যেই সুপারনিউমেরারি পদেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো। শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার দাবিতে যেখানে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, সেখানে এই ঘটনা তাঁদের ক্ষোভ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার শুনানি স্থগিত, ট্রাম্পের সমর্থনের ছায়া কি পড়ল আদালতের সিদ্ধান্তে?