নতুন প্রধান কে হবেন, জল্পনা তুঙ্গে
গাজায় চলমান সংঘর্ষের মাঝেই বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। অবশেষে হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল তাদের সামরিক প্রধান মহম্মদ সিনওয়ারের মৃত্যু হয়েছে। তিন মাস আগে ইজরায়েলি সেনা দাবি করেছিল সিনওয়ারকে হত্যা করা হয়েছে, তবে এতদিন বিষয়টি নিয়ে চুপ ছিল হামাস। এবার নিজেদের শীর্ষ নেতার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এনে তাঁকে ‘শহিদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
তবে কীভাবে, ঠিক কবে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, তা নিয়ে হামাস কোনও বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। শুধু সিনওয়ারের কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তাঁকে অন্যান্য নিহত শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে।
মহম্মদ সিনওয়ার ছিলেন হামাসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। গত বছর আগস্টে ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যুর পর সংগঠনের নেতৃত্বভার নিয়েছিলেন সিনওয়ারের দাদা ইয়াহিয়া সিনওয়ার। তবে মাত্র দুই মাস পরই ইজরায়েলি সেনা হামলায় ইয়াহিয়ার মৃত্যু হয়। ইজরায়েল তাঁর দেহের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিল। এর পরই হামাসের প্রধান পদে আসেন মহম্মদ সিনওয়ার।
গত মে মাসে দক্ষিণ গাজার একটি হাসপাতালে বিমানহানা চালিয়েছিল ইজরায়েলি সেনা। ইজরায়েলের দাবি ছিল, সিনওয়ার ওই হাসপাতালে গোপন আস্তানা বানিয়ে লুকিয়ে ছিলেন এবং সেখানেই হামলায় প্রাণ হারান। এই ঘটনার দু’দিন পর প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছিলেন, “আমরা হাজার হাজার সন্ত্রাসীকে খতম করেছি। দেইফ, হানিয়া, ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে নিকেশ করেছি। আর এখন খবর এসেছে, মহম্মদ সিনওয়ারও নিহত।” যদিও এতদিন এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি হামাস।
হামাসের সামরিক প্রধানের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সংগঠনের পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, সিনওয়ারের উত্তরসূরি হিসেবে ইজ্জ আল-দিন হাদ্দাদের নাম আলোচনায় রয়েছে। বর্তমানে উত্তর গাজার সামরিক কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি এবং সিনওয়ারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছে, হামাসের সামরিক প্রধান হিসেবে তাঁকেই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে গাজা উপত্যকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইজরায়েলের লাগাতার বিমান হামলায় গাজার অনেক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন, ফলে সংগঠনটি নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে। হামাসের ভেতরে এখন বড়সড় পুনর্গঠন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হামাসের প্রধান মহম্মদ সিনওয়ারের মৃত্যু শুধু সংগঠনের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি করেনি, ইজরায়েল-গাজা সংঘাতের ভবিষ্যত দিকনির্দেশনাতেও তা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন নেতৃত্ব কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়, তা এখন সবার নজর কাড়বে।
চিনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে দৃঢ় সংকল্প ভারত, এসসিও শীর্ষবৈঠকে নতুন কূটনৈতিক দিশা খুঁজছেন মোদী