সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে দেবরাজ চক্রবর্তী!
সম্পত্তি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল বারাসত আদালত। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করার সময় আদালত চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। যদিও কোনও ডিম দেবরাজের গায়ে লাগেনি, সেগুলি গিয়ে পড়ে পুলিশের গাড়ি এবং কয়েকজন পুলিশকর্মীর পোশাকে।
দেবরাজকে এ দিন বারাসত আদালতে আনা হবে, এমন খবর আগে থেকেই ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে সকাল থেকেই আদালত চত্বরে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েকজন বিক্ষোভকারী ডিম হাতে অপেক্ষা করছিলেন। পুলিশের গাড়ি আদালত চত্বরে ঢুকতেই একের পর এক ডিম ছোড়া হয়।
সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কায় দেবরাজকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে আনা হয়েছিল। পুলিশের গাড়ির জানালার কাচ বন্ধ রাখা হয় এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। সেই নিরাপত্তার মধ্যেই মাথায় টুপি পরে দ্রুত আদালতের ভিতরে প্রবেশ করেন দেবরাজ। বাইরে তখনও বিক্ষোভ চলছিল।
এই ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আদালত চত্বরে উপস্থিত আইনজীবীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, সাধারণ অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে যে ধরনের নিরাপত্তা দেখা যায় না, এ ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হয়েছে। যদিও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাই নিয়েছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
উল্লেখ্য, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সেই প্রেক্ষিতে এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত রাজ্য সরকারের কাছে এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের রিপোর্টও চেয়েছে। ফলে দেবরাজকে আদালতে আনার সময় পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
দেবরাজ চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী, প্রাক্তন বিধায়ক ও সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তি অর্জন, সম্পত্তির তথ্য গোপন করা এবং অর্থপাচারের মতো একাধিক অভিযোগে তদন্ত চলছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে বা আত্মীয়-পরিজনের নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
এ ছাড়াও নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির প্রকৃত হিসাব গোপন করার অভিযোগও উঠেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আগামী সাত দিন পুলিশি হেফাজতে দেবরাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তে নতুন তথ্য মিলতে পারে বলে আশা তদন্তকারীদের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?