সাজ্জাকের গুলির জবাব গুলি!
সাজ্জাক আলমের গুলি চালানোর প্রতিক্রিয়ায় পুলিশকেও গুলি চালাতে হয়েছিল, এবং সেই সংঘর্ষেই মৃত্যু হয় পলাতক বন্দির। এমনটাই জানালেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম। উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখরে সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। একদিকে সাজ্জাকের পালানোর চেষ্টা এবং অন্যদিকে পুলিশের প্রতিরোধ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনায় পরিপূর্ণ।
কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত?
গত বুধবার এক খুনের মামলায় বিচারাধীন বন্দি সাজ্জাক আলম মালদা আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর জেলে নিয়ে যাওয়ার পথে দুই পুলিশকর্মীকে গুলি করে পালিয়ে যান। দুই পুলিশকর্মী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সাজ্জাকের এই পালানোর ঘটনার পর থেকেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার নিজে উত্তরবঙ্গে যান, এবং সাজ্জাককে ধরার জন্য বিশেষ তৎপরতা শুরু হয়।

বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা এবং এনকাউন্টার
শনিবার সকালে জানা যায়, সাজ্জাক বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সাহাপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীপুর এলাকায় সীমান্তের কাছে পুলিশ তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে, সাজ্জাক পুলিশের দিকে গুলি চালায়।
এডিজি জাভেদ শামিম বলেন, “সাজ্জাককে থামতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি পুলিশ দেখেই গুলি চালাতে শুরু করেন। তিন-চার রাউন্ড গুলি চালানোর পর পুলিশ বাধ্য হয়ে গুলি চালায়।’’
তিনি আরও জানান, সাজ্জাকের পিঠে, গলায় এবং পায়ে গুলি লেগেছিল। যদিও তিনি তখনও জীবিত ছিলেন। পুলিশের তৎপরতায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ডিজির হুঁশিয়ারি ও পুলিশের অবস্থান
গোয়ালপোখরকাণ্ডের সময় রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন: “দুষ্কৃতীরা যদি পুলিশের দিকে একটি গুলি চালায়, পুলিশ চারটি গুলি চালাবে।’’ ডিজির এই মন্তব্যের পরেই এনকাউন্টারে সাজ্জাকের মৃত্যুর ঘটনা পুলিশের মধ্যে বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এডিজি জাভেদ শামিম এ নিয়ে সাংবাদিকদের জানান, সাজ্জাকের পালানোর খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে দল পাঠানো হয়। সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেওয়ায় দুষ্কৃতী পালানোর সুযোগ পায়নি।
সাজ্জাক: অপরাধী না পরিস্থিতির শিকার?
সাজ্জাক আলমের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল। খুনের মামলায় বিচারাধীন থাকাকালীনই তিনি পুলিশের চোখ এড়িয়ে পালিয়ে যান। পালানোর পর তাকে ধরতে গিয়ে পুলিশ যে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। পুলিশ মহলের মতে, সাজ্জাক নিজের জীবন রক্ষার তাগিদে যে আচরণ করেছেন, সেটিই তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এনকাউন্টারের সমালোচনা ও প্রশংসা
এনকাউন্টার ঘটনার পর রাজ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে পুলিশের তৎপরতা এবং দক্ষতা প্রশংসিত হয়েছে, অন্যদিকে কিছু মহল প্রশ্ন তুলছে—এই ঘটনার আদৌ প্রয়োজন ছিল কি? সাজ্জাককে জীবিত অবস্থায় আটক করা কি সম্ভব ছিল না? মানবাধিকার কর্মীদের একাংশ এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
পুলিশের বার্তা: নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ
এডিজি জাভেদ শামিমের এই বক্তব্য যে পুলিশের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে, তা বলাই বাহুল্য। শামিমের সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, কারণ তিনি সাধারণত এমনভাবে মিডিয়ার সামনে আসেন না।
শামিম বলেন, “যখন একজন দুষ্কৃতী প্রকাশ্যে পুলিশের দিকে গুলি চালায়, তখন আমাদেরও নিজেদের রক্ষা করার অধিকার আছে। এনকাউন্টারে সাজ্জাকের মৃত্যু দুঃখজনক, কিন্তু পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আমরা যা করেছি, সেটি নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।’’
শেষ কথা
উত্তর দিনাজপুরের এই এনকাউন্টার শুধু সাজ্জাকের জীবনের ইতি টেনে দেয়নি, বরং সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশের কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে যে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা সহজে থামবে বলে মনে হয় না। পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপ অপরাধ দমনে কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলবে।
একের পর এক হুমকির মাঝে সলমন হারালেন প্রিয়জনকে! পাশে রয়েছেন বান্ধবী ইউলিয়া