সাইবার অপরাধ ঠেকাতে সাইবার অস্ত্রই ভরসা: এথিক্যাল হ্যাকার হওয়ার রাস্তা ও রোজগারের দিগন্ত

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে সাইবার অস্ত্রই ভরসা! ডিজিটাল দুনিয়ায় যত সুবিধা বেড়েছে, ততই বেড়েছে সাইবার অপরাধ। তথ্য চুরি, অনলাইন জালিয়াতি, র‍্যানসমওয়্যার— সব কিছুর মোকাবিলায় প্রয়োজন এমন মানুষ, যাঁরা হ্যাকিং জানেন, কিন্তু…

January 2, 2026
1 min read

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে সাইবার অস্ত্রই ভরসা!

ডিজিটাল দুনিয়ায় যত সুবিধা বেড়েছে, ততই বেড়েছে সাইবার অপরাধ। তথ্য চুরি, অনলাইন জালিয়াতি, র‍্যানসমওয়্যার— সব কিছুর মোকাবিলায় প্রয়োজন এমন মানুষ, যাঁরা হ্যাকিং জানেন, কিন্তু আইনের পথে থেকে। এই কৌশলই পরিচিত এথিক্যাল হ্যাকিং নামে— এক কথায়, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা। আজ সরকারি সংস্থা থেকে শুরু করে কর্পোরেট জগৎ— সর্বত্রই এই দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে।

কারা এই পথে এগোতে পারেন?

যাঁদের গণিত, লজিক আর কম্পিউটার নিয়ে আগ্রহ আছে, তাঁদের জন্য এই ক্ষেত্রটি উপযুক্ত। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে দ্বাদশ পাশ করলে উচ্চশিক্ষার দরজা খোলে। যদিও দেশে এখনই আলাদা ডিগ্রি হিসেবে ‘এথিক্যাল হ্যাকিং’ পড়ানো হয় না, তবে কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি বা সাইবার সিকিউরিটি-র সঙ্গে স্পেশালাইজেশন হিসেবে বিষয়টি পড়া যায়। স্নাতকোত্তর স্তরেও সাইবার রিস্ক ও ইনফরমেশন সিকিউরিটির সঙ্গে গভীরভাবে শেখার সুযোগ রয়েছে।

দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান— Indian Institutes of Technology, National Institutes of Technology এবং Indian Institutes of Information Technology— এই ক্ষেত্রের নানা কোর্স অফার করে। ইনফরমেশন সিকিউরিটির মতো কিছু উন্নত বিষয় পড়তে চাইলে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকেও নজর দিতে হতে পারে।

কী কী শেখানো হয়?

এই পথে পড়লে শেখা হয়—

  • কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও ডেটাবেসের গঠন
  • বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের কাজকর্ম
  • নেটওয়ার্ক পেনিট্রেশন টেস্টিং
  • ম্যালওয়্যার ও ভালনারেবিলিটি অ্যানালিসিস
  • ক্রিপ্টোগ্রাফি
    পাশাপাশি, আইটি অ্যাক্ট ও সাইবার আইনের জ্ঞান থাকাও জরুরি— কারণ এখানে প্রতিটি পদক্ষেপ আইনের সীমারেখা মেনেই নিতে হয়।

শংসাপত্র কেন জরুরি?

ডিগ্রি থাকলেই চলবে না। কাজ শুরু করতে চাইলে সরকারি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সার্টিফিকেট দরকার। যেমন— সার্টিফায়েড এথিক্যাল হ্যাকার (CEH), CompTIA Security+, eJPT ইত্যাদি। অভিজ্ঞতা বাড়লে অ্যাডভান্সড লেভেলের সার্টিফিকেশনও পাওয়া যায়, যা কেরিয়ারকে আরও শক্ত করে।

কোথায় কাজের সুযোগ?

সরকারি ক্ষেত্রে গোয়েন্দা বিভাগ, সাইবার অপরাধ দমন শাখা, Indian Computer Emergency Response Team, Defence Research and Development Organisation এবং Indian Space Research Organisation— এই সব জায়গায় এথিক্যাল হ্যাকারদের নিয়োগ হয়।
বেসরকারি ক্ষেত্রে কাজের পদও নানা রকম— সাইবার সিকিউরিটি কনসালট্যান্ট, পেনিট্রেশন টেস্টার, ইনসিডেন্ট রেসপন্স অ্যানালিস্ট, SOC অ্যানালিস্ট ইত্যাদি।

বিদেশেও এই দক্ষতার কদর অনেক। আমেরিকা, জার্মানি, ব্রিটেন, সিঙ্গাপুরের মতো দেশে প্রোজেক্ট বা চুক্তিভিত্তিক কাজের সুযোগ মেলে।

বেতন কেমন?

কেরিয়ারের শুরুতে বছরে আনুমানিক ৪ থেকে ৮ লক্ষ টাকা আয় হতে পারে। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাড়লে এই অঙ্ক ২৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।

ডিজিটাল যুগে সাইবার সুরক্ষা ছাড়া ভবিষ্যৎ কল্পনা করা যায় না। তাই আইন মেনে, সঠিক প্রশিক্ষণ ও শংসাপত্র নিয়ে এথিক্যাল হ্যাকিংকে পেশা করলে রোজগার ও সম্মান— দুটোই মিলতে পারে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *