জলমগ্ন কপিলমুনির আশ্রম
ঘূর্ণিঝড় ডানার ভয়াবহ প্রভাবে বাংলা ও ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকাগুলি বিপর্যস্ত। আজ সকাল ৭টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের শেষ অংশ স্থলভাগে প্রবেশের সাথে সাথেই এর প্রবল তাণ্ডব শুরু হয়েছে। তীব্র বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে গঙ্গাসাগরের কপিলমুনির আশ্রম প্রায় সম্পূর্ণ জলের তলায়। আশ্রমের ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বেড়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
প্রবল জলোচ্ছ্বাসে আশ্রমের অদূরে জল থইথই
কপিলমুনির আশ্রম ও তার আশপাশের এলাকায় একদিকে চলছে প্রবল বৃষ্টিপাত, অন্যদিকে সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছে। ডানার প্রভাবে সমুদ্র ক্রমাগত উত্তাল হয়ে উঠছে। আশ্রম সংলগ্ন এলাকায় এমন উচ্চতা নিয়ে ঢেউ আছড়ে পড়ছে যে, আশ্রমের আশেপাশের পথঘাটও এখন পানির নিচে চলে গেছে। পরিস্থিতি এমন যে, সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসে পুরো আশ্রম ও তার আশেপাশের এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
মরা কোটালের সময়ও বাঁধ ভাঙা, আশঙ্কার মধ্যে স্থানীয়রা
ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের সাথে কোটালের প্রভাব এই বিপর্যয়কে আরও ভয়ংকর করেছে। সাধারণত এই সময়ে সমুদ্র কিছুটা স্থির থাকে, কিন্তু মরা কোটালের সময় হওয়া সত্ত্বেও প্রচণ্ড ঢেউয়ে বাঁধের দুর্বল অংশ দিয়ে আশ্রম চত্বর পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, অনেকদিন পর এমন বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় দেখছে তারা। বেশ কিছু গাছপালা উপড়ে পড়েছে, চাষের জমিতেও ক্ষতি হচ্ছে।
প্রশাসনের তরফ থেকে উদ্ধারকাজে তৎপরতা
জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া এলাকার মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসন তৎপর। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে আশ্রমের আশেপাশের বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি, এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ-এর দলও মোতায়েন করা হয়েছে। আশ্রম চত্বরে পর্যাপ্ত আলো ও পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং স্থানীয় মানুষদের জন্য শিবির তৈরি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা
ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা কমার কোনও ইঙ্গিত নেই, বরং দানা আরও শক্তি বাড়িয়ে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া আনতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। জলবায়ুর পরিবর্তনকে মাথায় রেখে প্রশাসন স্থানীয় মানুষদের সতর্ক থাকতে বলেছে এবং খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে না বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ ও কপিলমুনির আশ্রমে আশ্রয় নেওয়া ভক্তদের জন্য এই বিপদের সময় অনেক কঠিন হলেও স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য ও নিরাপত্তার জন্য তাদের সকলকেই নিরাপদে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।