কলকাতার জলমগ্ন পরিস্থিতিতে ববির প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ
কলকাতা শহর টানা বর্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেসে যাচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে দক্ষিণ কলকাতার চেতলা—যেখানে বসবাস করেন কলকাতার মেয়র ও রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিম। সোমবার রাত থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে প্রবল বৃষ্টি, যার ফলে চেতলায়ই শহরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে—২৬২ মিলিমিটার।
ববি শুধু মেয়র নন, একইসঙ্গে রাজ্যের পুরমন্ত্রীও। তাই এ ধরনের জলাবদ্ধতা ও জরুরি পরিস্থিতি তার প্রশাসনিক দায়িত্বকে আরও জটিল করে তুলেছে। সারা রাত তিনি চেতলার বাড়ি থেকে পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তবে লকগেট বন্ধ এবং অতিবৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির মুখে পড়ে। মেয়র নিজেই তড়িঘড়ি করে পুরসভার কন্ট্রোল রুমে উপস্থিত হন, টি-শার্ট চাপিয়ে এবং ট্রাউজার্স গুটিয়ে। তবে জলাবদ্ধতার মাত্রা এত বেশি ছিল যে, তৎপরতার সব চেষ্টা সত্ত্বেও শহরের অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
মঙ্গলবার ভোর থেকেই কলকাতা প্রায় পুরোপুরি জলবন্দি। পোর্টেবল পাম্প দিয়ে প্রাথমিকভাবে পানি নামানোর চেষ্টা হলেও বৃষ্টির পরিমাণ এত বেশি যে, নগরজীবন প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়। পুজোর মুখে এই বানভাসি পরিস্থিতি সাধারণ মানুষকে হতাশ করেছে, এবং অভিযোগের আঙুল স্বভাবতই উঠেছে মেয়র হাকিমের দিকে।
ববি কলকাতার মেয়র পদে আসার আগে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের আকস্মিক ইস্তফার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থায় মেয়র হয়েছেন। সেই সময় থেকেই তিনি একসঙ্গে মেয়র ও পুরমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। শাসকদলের অনেকেই আগেই বলেছিলেন, একাধিক দায়িত্বে থাকার কারণে তাঁর পক্ষে প্রশাসনিক দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করা কঠিন হবে।
যদিও ববি নাগরিকদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার জন্য ‘টক টু মেয়র’ কর্মসূচি চালু করেছেন, যার মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ ও সমস্যাগুলো শোনার ব্যবস্থা রয়েছে, তবু এই দুর্যোগে নগরবাসীর প্রতিক্রিয়া কড়া। অনেকেই জলমগ্নতার জন্য কলকাতা পুরসভার নিকাশি ব্যবস্থাকেই দায়ী করছেন। শহরের শতাব্দীপ্রাচীন অবকাঠামো এবং অপ্রতিষ্ঠিত টাউন প্ল্যানিংও এই সমস্যার জন্য বড় কারণ।
শাসকদলের অভ্যন্তরে এমন পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। প্রাক্তন মেয়রদের সঙ্গে তুলনা করলে ববিকে খানিকটা পিছিয়ে দেখা যায়। পাশাপাশি, বিভিন্ন ওজনদার নেতা নিজের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে মেয়রের কার্যকারিতাকে সীমিত করেছেন।
চেতলায় ববির বাড়ি থেকে দেখা গেছে, পানি জমা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তিনি চেষ্টা করেছেন। মঙ্গলবার ববিকে নিজেই হাঁটু পর্যন্ত জল গুটিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে দেখা গেছে। তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপে, নির্বাচনের আগে এই জলাবদ্ধতা ববির উপর জনমত ও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।
কলকাতার এই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, নজিরবিহীন বৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে একদিকে প্রশাসনিক দক্ষতা, অন্যদিকে রাজনৈতিক দায়িত্ব—দুটোর ভারসাম্য বজায় রাখা কতটা কঠিন হতে পারে।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা