সরকারি হাসপাতালে ভুয়ো হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের দাপট! ৫০টিরও বেশি অস্ত্রোপচারে রোমহর্ষক ঘটনা হরিয়ানায়

সরকারি হাসপাতালে ভুয়ো হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের দাপট!! হরিয়ানার ফরিদাবাদের একটি সরকারি হাসপাতালে ধরা পড়ল এক ভুয়ো হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের বেপরোয়া কাজকর্ম। পঙ্কজমোহন শর্মা নামের এই ব্যক্তি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে গিয়েছিল বহু…

June 8, 2025
1 min read

সরকারি হাসপাতালে ভুয়ো হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের দাপট!!

হরিয়ানার ফরিদাবাদের একটি সরকারি হাসপাতালে ধরা পড়ল এক ভুয়ো হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের বেপরোয়া কাজকর্ম। পঙ্কজমোহন শর্মা নামের এই ব্যক্তি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে গিয়েছিল বহু মানুষের জীবনের সঙ্গে খেলতে। পুলিশের তথ্য মতে, ৫০টিরও বেশি অস্ত্রোপচার করেছেন তিনি, যা নিয়ে এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের হাতে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, পঙ্কজমোহন শর্মা আসলে হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ নন। তিনি অন্য এক চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে নিজের পরিচয় গোপন করে আসছিলেন। অথচ তিনি নিজেও একজন চিকিৎসক হলেও হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ নন। এই শ্মশানীয় সত্য সামনে আসার পর ফরিদাবাদের হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।

আট মাসেরও বেশি সময় ধরে ফরিদাবাদের সরকারি হাসপাতালে এই ভুয়ো চিকিৎসক হৃদ্‌রোগ সংক্রান্ত অস্ত্রোপচার চালিয়ে গিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের কাছে জানা গেছে, তাঁর অস্ত্রোপচার করা রোগীদের মধ্যে অনেকেই নানা ধরনের জটিলতায় ভুগছেন। এমনকি কয়েকজনের মৃত্যুও ঘটেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই হাসপাতাল ও স্থানীয় সমাজে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গত শনিবার হাসপাতালে অভিযোগ দায়ের হয়। যিনি তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেই প্রকৃত হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ পঙ্কজমোহনের কাছে রোগীদের একজন বিষয়টি জানিয়ে দেন। এরপরেই পুলিশের কাছে অভিযোগ গড়ায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফরিদাবাদের ওই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করতেন এই ভুয়ো চিকিৎসক। সন্দেহ পেয়ে রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালে তাঁর প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, চিকিৎসক পঙ্কজমোহন শর্মা নিজেও আইনি পথে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এই ঘটনায় হরিয়ানার স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক বড় প্রশ্নচিহ্ন উঁকি দিয়েছে। একজন ভুয়ো চিকিৎসক এমন গোপনীয়তার সঙ্গে এত দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে সরকারি হাসপাতালে কাজ করতে পেরেছিলেন, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলা এই ঘটনা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য এক বিব্রতকর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, এই ধরনের ঘটনা যেন আর কখনও না ঘটে তার জন্য কঠোর নিয়ম মেনে চলা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর্মীদের যাচাই-বাছাই অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসার নিরাপত্তা যে জীবন রক্ষার সঙ্গে জড়িত, তা বারবার মনে করিয়ে দিল এই ঘটনায়।

এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন রোগী ও পরিবারগুলো যেন সঠিক চিকিৎসা পান এবং ভুয়ো চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া হয়, সেই দাবি উঠেছে সর্বত্র। ফরিদাবাদের সরকারি হাসপাতাল এখন বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

সার্বিক দিক থেকে, এই ঘটনাটি শুধু ফরিদাবাদ নয়, সারা দেশের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে—চিকিৎসক পরিচয়ে ফাঁকিবাজি অত্যন্ত মারাত্মক এবং তা রোধে সঠিক ব্যবস্থা জরুরি।

বাড়ির খাবারেও বাড়তে পারে কোলেস্টেরল: প্রাতরাশে এই ৫ খাবার খাবেন না কেন?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *